রবিবার

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

করোনার টিকার ১২০০ কোটি টাকা ফেরত দেয়নি ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৩৫

শেয়ার

করোনার টিকার ১২০০ কোটি টাকা ফেরত দেয়নি ভারত
ছবি এআই মাধ্যমে তৈরি

কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে টিকা কেনাকাটাসহ এ খাতে বরাদ্দ ও ব্যয় করা প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার নথিপত্র সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পাওয়া যাচ্ছে না। দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কাছে নথি চেয়ে চিঠি দিলেও অনেক ক্ষেত্রে সাড়া মেলেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে করোনার টিকা কেনার জন্য ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটকে অগ্রিম দেওয়া ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা পাঁচ বছরেও ফেরত পায়নি বাংলাদেশ। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কিনতে দুই দফায় ওই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল। বাংলাদেশে টিকা আমদানির এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

অগ্রিম অর্থ নেওয়ার পর টিকা সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে অর্থ ফেরত চেয়ে সে সময়ই ভারতকে চিঠি দিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ওই অর্থ ফেরত পাওয়ার তথ্য তাদের কাছে নেই।

করোনাকালীন অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয়, টিকা কেনাকাটা এবং কথিত অনিয়মের বিভিন্ন দিক নিয়ে দুদক অনুসন্ধান করছে। বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ এবং দুদক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ৪০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে অন্তত ২২ হাজার কোটি টাকা তসরুপের অভিযোগ রয়েছে। টিকা কেনাকাটায় সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গ্রুপ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও অনুসন্ধানে এসেছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এক গবেষণাতেও টিকা ও টিকার সরঞ্জাম কেনাকাটায় অন্তত ২২ হাজার কোটি টাকা অপচয় ও দুর্নীতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান টিমের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত মার্চ থেকে বিভিন্ন দপ্তর, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে সংশ্লিষ্ট নথি, সিদ্ধান্তপত্র, আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ও আর্থিক বিবরণী চেয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনাকালীন স্বাস্থ্য খাতে অর্থ বরাদ্দ ও টিকা কেনাকাটাসহ সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দুদকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরাও দুদকের চাহিদা অনুযায়ী নথিপত্র দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে কিছু নথি না পাওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার এক কর্মকর্তা জানান, করোনাকালে একজন অতিরিক্ত সচিবের তদারকিতে বিশেষ সেল গঠন করা হলেও অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয়ের সঙ্গে ওই সেলের সরাসরি সম্পর্ক ছিল না। পুরো বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তদারকি করা হতো। ফলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও সেখানে থাকার কথা বলে জানান তিনি।

করোনার টিকায় ৪০ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। ওই বছরের ১৮ মার্চ করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ডিসেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনার টিকা দেওয়ার বিষয়ে জরুরি সিদ্ধান্ত ও প্রটোকল ঘোষণা করে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষণার পর সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি কাটছাঁট করে টিকা কার্যক্রম শুরুর জন্য জরুরিভিত্তিতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করে। পরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একজন অতিরিক্ত সচিবের তদারকিতে বিশেষ করোনা সেল গঠন করা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে ৩২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। এর বাইরে করোনার টিকা কেনার জন্য আরও ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

পরের অর্থবছরে করোনার জন্য বিশেষ ৫ হাজার কোটি টাকাসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দ ছিল ৩৬ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা। সে সময় বাজেট বক্তৃতায় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল জানিয়েছিলেন, বরাদ্দের বাইরেও করোনার টিকা কেনার প্রয়োজন হলে অর্থ দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ বরাদ্দসহ দুই অর্থবছরে করোনার জন্য মোট ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ও ব্যয় হয়েছে। প্রতিবেদনে টিকা ক্রয়, সংরক্ষণ, টিকাদানসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

করোনার টিকা কার্যক্রম শেষে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, মহামারির সময়ে টিকা আনা, সংরক্ষণের জন্য ডিপ ফ্রিজ কেনা, করোনা রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতাল ভাড়া এবং চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ ভাতাসহ বিভিন্ন খাতে সরকার অর্থ ব্যয় করেছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বাজেট শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, ২০২০ সালের জুনে কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস নামে ১ হাজার ১১৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে করোনার টিকা কেনা ও সরবরাহের জন্য আরও ৬ হাজার ৮১৬ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের নথি দুদককে সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

টিকা কেনাকাটায় ২২ হাজার কোটি টাকার অভিযোগ

টিআইবির করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলায় সুশাসন : অন্তর্ভুক্তি ও স্বচ্ছতার চ্যালেঞ্জ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে টিকা কার্যক্রমে অনিয়ম ও অপচয়ের অভিযোগ করা হয়। প্রতিবেদনে টিকা সরবরাহকারী দেশগুলোর মূল্য, পরিবহন, সংরক্ষণ, টিকাকর্মী নিয়োগ এবং বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন ব্যয় পর্যালোচনা করে বলা হয়, মোট ব্যয় ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। সে হিসাবে অন্তত ২২ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার করোনার টিকা কেনাকাটার অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদও দুদকে অভিযোগ দেয়।

২০২৫ সালের ১৭ মার্চ দেওয়া ওই অভিযোগে বলা হয়, করোনার টিকা কেনার নামে শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের নেতৃত্বাধীন একটি চক্র ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। অভিযোগটি আমলে নিয়ে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে।

দুদকের তৎকালীন মহাপরিচালক আক্তার হোসেন জানিয়েছিলেন, করোনা টিকা কেনার আড়ালে রাষ্ট্রের ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সালমান এফ রহমান, বেক্সিমকো ফার্মাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানিয়েছিলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ করছেন এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

দুদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, টিকা কেনাকাটায় আর্থিক লেনদেনের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নথি ও তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ, ব্যয়, টিকা সরবরাহকারীদের মূল্য এবং লেনদেন-সংক্রান্ত নথিও তলব করা হয়েছে।

ভারতের কাছে পাওনা ১২০০ কোটি টাকা

বাংলাদেশ সরকার সেরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আমদানির জন্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করেছিল। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ভারতকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী ৩০ কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার কথা ছিল।

প্রথম চালানে বাংলাদেশকে ২০ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড টিকা দেওয়ার পর ভারত নিজেদের করোনা পরিস্থিতির কারণে টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।

অর্থ ফেরতের বিষয়ে সে সময় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল জানিয়েছিলেন, টিকা দিতে না পারলে বাংলাদেশ টাকা ফেরত পাবে। এ বিষয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে ভারতকে দেওয়া ওই অর্থ বাংলাদেশ ফেরত পেয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বাজেট শাখায় যোগাযোগের পরামর্শ দেন। সেখানে কর্মকর্তারা জানান, ২০২৩ সালের পর করোনার টিকা-সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র তাদের কাছে নেই। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তদারকি করা হয়েছিল বলে জানান তারা।

দুদক ও সরকারের বক্তব্য

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশীদের কাছে করোনাকালীন টিকা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ এবং অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, অনুসন্ধানে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করা হবে।

দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি এখনো অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নথি পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানানো যাবে।

দুদকের উপপরিচালক জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি দল করোনার টিকা কেনাকাটার অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। দলের একজন সদস্য জানান, অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, আর্থিক লেনদেন এবং নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দলের অপর এক কর্মকর্তা অভিযোগের বিষয়ে বলেন, তৎকালীন ক্ষমতাসীন একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দেশীয় টিকা উৎপাদনের পথ রুদ্ধ করে বিদেশ থেকে টিকা আমদানিকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। টিকা আমদানি, সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের নামে একটি চক্র অন্তত ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওই অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বঙ্গভ্যাক্সের অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু হলে গ্লোব বায়োটেককে বেক্সিমকোর সঙ্গে যৌথ শেয়ারে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় দেশীয় উদ্যোগটি নানা অজুহাতে আটকে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান বা তদন্তের স্বার্থে দুদক তথ্য চাওয়ার পর সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাড়া না দেওয়ার বিষয়টি আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া তথ্য দিতে অসহযোগিতা করা হলে সেটি দুর্নীতি-সুরক্ষাকারী অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিষ্ক্রিয়তার কারণে দুদকের অনুসন্ধান থেমে থাকা উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।

সালমান এফ রহমান কারাবন্দি এবং জাহিদ মালেক আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করা হলেও কেউ এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।