শনিবার

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

মাথা গরম না করে জনতার দাবি মেনে নিন: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:৫৬

শেয়ার

মাথা গরম না করে জনতার দাবি মেনে নিন: জামায়াত আমির
ছবি সংগৃহীত

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ দেখে সরকারের মাথা গরম হয়েছে মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারকে মাথা গরম না করে জনতার দাবি মেনে নিতে হবে। তিনি বলেন, ৮ দফা দাবি যেকোনো সময় ৯-১০ দফা হতে পারে। আবার যেকোনো সময় তা এক দফায় পরিণত হতে পারে। এক দফা হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। জনতার দাবি মানতে ব্যর্থ হলে তারা কোনো কিছু পরোয়া করবেন না।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন এবং সেই দাবি পূরণ করেই ঘরে ফিরবেন। দাবি আদায়ের জন্য এই লড়াই শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নাহিদ ইসলামের অভিযোগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা সরকার যেভাবে আইন করে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র হরণ করেছে, তারেক রহমানের সরকারও একইভাবে আইন করছে। এর মাধ্যমে তিনি ইতিহাসের রাস্তায় নিক্ষিপ্ত হবেন।

বিভিন্ন স্থানে লংমার্চের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এসব ছিঁড়ে গণজোয়ার বন্ধ করা যাবে না। তাদের আট দফা দাবি এক দফায় এসে ঠেকবে। এ জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

১১ দলের নেতাদের বক্তব্য

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, দেশকে সঠিক পথে আনার জন্য তারা এই লংমার্চ করছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। হরতাল-অবরোধ না করে ১১ দল বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তারা পদে পদে ব্যর্থ হয়েছেন বলেই এই লংমার্চ করা হচ্ছে।

সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রারি জেনারেল ও ১১ দলের নায়ক হামিদুর রহমান আজাদ।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন নেজামে ইসলাম পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোভানি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাকপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বিজেপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক চাঁন, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ও সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ প্রমুখ।

রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চের যাত্রা

সমাবেশ শেষে সকাল ৮টায় রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে। এতে হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রংপুরে সমাপনী সমাবেশের আগে পথে পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমটি হবে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে। এরপর টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস রোড, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালির বিমান মোড় এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে।

সন্ধ্যায় রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পথে লংমার্চকে স্বাগত জানাতে আসা জনতার চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় দাঁড়িয়ে নেতারা বক্তব্য রাখতে পারেন।

লংমার্চ সফল করতে জামায়াত, এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।