শনিবার

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের পর কাফরুলে বাসে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:৩০

শেয়ার

ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের পর কাফরুলে বাসে আগুন
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার মধ্যে কাফরুল থানার সামনে একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। কে বা কারা বাসটিতে আগুন দিয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

ডিএমপির মিরপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আবুল বাসার জানান, থানা-সংলগ্ন এলাকায় একটি ফাঁকা বাসে আগুন লাগার খবর পেয়েছেন তিনি। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলে জানান তিনি।

এর কিছুক্ষণ পর রামপুরায় বিটিভি ভবনের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যাত্রাবাড়ীতে চার ককটেল বিস্ফোরণ

শুক্রবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মোট ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একটি এবং এর কিছুক্ষণ পর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরও তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়।

এসব বিস্ফোরণে ইবাদুর রহমান নামের এক অটোরিকশাচালক আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। উড়ালসড়ক থেকে ককটেলগুলো নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাজু জানান, থানার প্রধান ফটকের সামনে প্রথমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কোথা থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা এখনো নিশ্চিত নন। কে বা কারা এসব বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রাজধানীর আরও কয়েক স্থানে বিস্ফোরণ

দুপুরে জুমার নামাজের পর মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে আগারগাঁওয়ের বেতার ভবনের সামনে, সাড়ে ছয়টার দিকে মহাখালী এলাকায়, রাত আটটার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এবং রাত নয়টার দিকে মগবাজার মোড়ে একটি করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।

আগারগাঁও ছাড়া অন্য স্থানগুলোতে উড়ালসড়কের ওপর থেকে নিচে ককটেল ছোড়া হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। এসব ঘটনায় কে বা কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এর আগে গুলশানে ঝটিকা মিছিল

পুলিশ জানিয়েছে, কিছুদিন ধরে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে আসছেন। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক শ নেতা-কর্মী জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিল করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় তাঁরা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। একপর্যায়ে গুলশান ও আশপাশের এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়লে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল জব্দ করা হয়। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ওই ঘটনার পর ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার ও ওসিকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এর এক সপ্তাহ পর শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আবারও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের পরও ককটেল বিস্ফোরণ

এর আগে মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ওই দিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়।