বৃহস্পতিবার

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২ আশ্বিন, ১৪৩৩

সর্বজনীন পেনশনে স্পাউসের বয়সসীমা ৮০ বছর হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩০

শেয়ার

সর্বজনীন পেনশনে স্পাউসের বয়সসীমা ৮০ বছর হলো
ছবি সংগৃহীত

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় কোনো পেনশনার মারা গেলে তাঁর স্বামী বা স্ত্রী ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন পাবেন। আগে এ সুবিধা ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত ছিল। একই সঙ্গে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।

সভায় পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে আপাতত ৬০ বছর বয়সেই পেনশন পাওয়ার নিয়ম বহাল থাকছে।

পেনশনারের স্পাউস পাবেন ৮০ বছর পর্যন্ত

পেনশনারের মৃত্যুর পর তাঁর স্পাউসের পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে। আগে ৭৫ বছর পর্যন্ত এ সুবিধা পাওয়া যেত। এখন থেকে ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন পাবেন স্পাউস।

ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, পেনশনার আজীবন পেনশন পাবেন। তাঁর স্পাউস ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন পাবেন। সাধারণত স্ত্রী বা স্বামীকে স্পাউস হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর অনুমোদন

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর অনুমোদন দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রচলিত স্কিমের পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতিতে পেনশনের সুযোগ তৈরির প্রক্রিয়া এখন শুরু হবে।

নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ইসলামিক ভার্সন অনুমোদন হয়েছে। এটি চালুর আগে কাঠামো ও পরিচালনপদ্ধতি চূড়ান্ত করতে হবে। এ জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং স্থানীয় পরামর্শকেরা কাজ করছেন। একচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষে বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।

৫৫ বছরে পেনশন নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি

পেনশন শুরুর বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার বিষয়ে আলোচনা হলেও বৃহস্পতিবারের সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, ৫৫ বছর বয়সে পেনশন দেওয়ার বিষয়টি আপাতত সিদ্ধান্ত হয়নি। একচুয়ারিয়াল সায়েন্সে নিয়োগ পাওয়া বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী গভর্নিং বডির সভায় বিষয়টি আবার উপস্থাপন করা হতে পারে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে পেনশন শুরুর বয়স ৬২, ৬৬ বা ৬৭ বছর। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ুও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

বিনিয়োগে মুনাফা হয়েছে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশের বেশি

সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষের তহবিল বিনিয়োগ করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশের বেশি মুনাফা হয়েছে। সভায় এ মুনাফা অনুমোদন করা হয়েছে।

তবে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশনভোগীদের মুনাফা দেওয়ার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তহবিলের পরিধি আরও বাড়লে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান নির্বাহী চেয়ারম্যান।

নিবন্ধনে প্রণোদনা বাড়িয়ে ২৫ টাকা

সর্বজনীন পেনশনে মানুষকে যুক্ত করতে নিবন্ধনের প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান একজন নতুন সদস্য নিবন্ধন করালে ২৫ টাকা পাবে। আগে এ প্রণোদনা ছিল ১৫ টাকা।

ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, প্রণোদনা বাড়ানো হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি মানুষকে নিবন্ধনের আওতায় আনার চেষ্টা করবে।

সরকারি কোম্পানির কর্মীরা আসবেন প্রগতি স্কিমে

ডাক বিভাগ ছাড়া যেসব সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির কর্মীরা বর্তমানে কোনো পেনশন স্কিমের আওতায় নেই, তাঁদের প্রগতি স্কিমে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ছাড়া বিদেশগামী কর্মীদের প্রবাস স্কিমে যুক্ত করতে বিদেশ যাওয়ার আগে ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশনের সময় তাঁদের এ বিষয়ে জানানো হবে। তাঁদের হাতে লিফলেট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দেওয়া হবে। সরকারি ব্যবস্থায় বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রবাস স্কিমে নিবন্ধনকে শর্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

ঋণ ও স্বাস্থ্যবীমা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে

পেনশন তহবিল থেকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ঋণ দেওয়া হলে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন নিশ্চিত করা যাবে কি না, সুদের হার ও অন্যান্য শর্ত পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সর্বজনীন পেনশনের আওতায় স্বাস্থ্যবীমা চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এখনই এটি চালু করা হচ্ছে না। একচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য আর্থিক চাপ ও ঝুঁকি যাচাই করে পরে মডেল চূড়ান্ত করা হবে।

বেসরকারি সিএ ফার্ম দিয়ে অডিট হবে

আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়াতে সরকারি অডিটের পাশাপাশি একটি বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম দিয়ে অডিট করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, সরকারি নিয়মে সাধারণ অডিটের পাশাপাশি নির্বাচিত একটি বেসরকারি সিএ ফার্ম দিয়ে অডিট করানো হবে। এতে কর্তৃপক্ষের হিসাব ও আর্থিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।