বৃহস্পতিবার

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২ আশ্বিন, ১৪৩৩

আগামী মাসে রূপপুর থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কাজ চলছে: রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১০

শেয়ার

আগামী মাসে রূপপুর থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কাজ চলছে: রাষ্ট্রদূত
ছবি সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী মাসের মধ্যে প্রথম ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার খোজিন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গুলশান কার্যালয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ তথ্য জানান। এফবিসিসিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রূপপুরে কাজ করছেন প্রায় চার হাজার রুশ বিশেষজ্ঞ

বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রকল্পের কারিগরি বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে প্রায় চার হাজার রুশ বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী কাজ করছেন বলে জানান আলেক্সান্দার খোজিন।

তিনি জানান, আগামী মাসের মধ্যে প্রথম ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ চলছে।

রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগ

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ ও সম্প্রসারণের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে একটি যৌথ রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল গঠনে আগ্রহের কথা জানিয়েছে মস্কো চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

এ ছাড়া মস্কোতে রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। দুই দেশের উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতে এই ফোরাম আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত।

তিনি জানান, ফোরামে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের প্রোফাইলের ভিত্তিতে সরাসরি বিটুবি বৈঠকসহ বিভিন্ন সেশনের আয়োজন করা হবে।

নতুন খাতে বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতে দুই দেশের বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক। তিনি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিক এবং রাশিয়ায় মানবসম্পদ রপ্তানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির বিষয়ে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে।

রাশিয়ার তীব্র শীতের উপযোগী ভারী জুতো ও চামড়াজাত পণ্যেরও ভালো চাহিদা রয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, জাহাজ নির্মাণ শিল্প ও সেবা খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা দিয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রদূত।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে, সরকার ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।