রবিবার

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

দুই মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল ১ লাখ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:১০

শেয়ার

দুই মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল ১ লাখ কোটি টাকা
ছবি সংগৃহীত

ঢাকা মহানগরীর যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে দুটি চলমান মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন করা হয়েছে। এতে দুই প্রকল্পে মোট ব্যয় বেড়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

একনেকের মূল বৈঠকে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পসহ মোট ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাতটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প। সভা শেষে একনেকের সিদ্ধান্ত ও বিস্তারিত বিষয় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা

৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যয় বেড়ে ৬১ হাজার ৮৩৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা হয়। সংশোধিত ব্যয় অনুযায়ী প্রকল্পটির ব্যয় প্রাথমিক প্রস্তাবের তুলনায় প্রায় ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটির সব কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্নের ব্যয় বেড়েছে ৪৮ হাজার কোটি টাকা

২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত মেট্রোরেল করিডোর নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

এর মূল ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রকল্পটির ব্যয় ৪৮ হাজার ৬০৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্নে ব্যয় ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা

গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা দেওয়া হবে। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল ইডিসিএফের যৌথ ঋণ সহায়তা হিসেবে দেওয়ার কথা রয়েছে।

এই লাইনের ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে ভূগর্ভস্থ এবং বাকি অংশ উড়ালপথে নির্মাণ করা হবে। গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার ও তেজগাঁও হয়ে হাতিরঝিলের তলদেশ দিয়ে আফতাবনগর পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। টানেলটি মাটির ১৬ থেকে ৩৮ মিটার গভীরে নির্মাণ করা হবে।

একনেকের মূল এজেন্ডায় এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। তবে নগরবাসীর সুবিধা এবং মেট্রোরেলের পুরো নেটওয়ার্ক দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয় বিবেচনায় জাপানের অর্থায়নে চলমান এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবও একই সঙ্গে একনেকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।