আগামী ২৩ বা ২৪ সেপ্টেম্বরের দিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তীতে এটি নিম্নচাপে রূপ নিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সম্ভাব্য এই লঘুচাপের গতিপথ, শক্তি ও প্রভাব সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এ প্রসঙ্গে সোমবার সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, আগামী ২৩ কিংবা ২৪ সেপ্টেম্বরের দিকে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। পরে তা নিম্নচাপে রূপ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেও বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানবে কি না, তা লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার পর এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে বলা যাবে।
এদিকে পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে আগামী বুধবার থেকে দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। এ প্রবণতা ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হলেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি বজায় থাকতে পারে।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে রাজধানীতে। তবে দিনের বেশিরভাগ সময় রাজধানী ঢাকার আকাশ অনেকটাই পরিষ্কার ও রৌদ্রোজ্জ্বল ছিল। এদিন দেশের সর্বোচ্চ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নেত্রকোনায়। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা আগের কয়েকদিনের তুলনায় তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে সারা দেশে ভ্যাপসা গরম দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে।
আগামী বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় এবং খুলনা ও বরিশালের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে আগামী পাঁচ দিনে আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মৌসুমি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে বঙ্গোপসাগরে চার থেকে ছয়টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম এবং তাপমাত্রা বেশি থাকতে পারে। ফলে বৃষ্টি ও গরম—দুই ধরনের আবহাওয়াই পাল্লা দিয়ে চলতে পারে।
তবে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এখনই আতঙ্কিত না হয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত সতর্কবার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন:







