মঙ্গলবার

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩

অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর বলে ক্ষোভ প্রকাশ স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৫৫

শেয়ার

অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর বলে ক্ষোভ প্রকাশ স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের
ছবি: সংগৃহীত

দেশের অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তার মতে, এসব কর্মকর্তার ঘুষ-লুটপাটের ফলে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।

রবিবার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় দেশের বিচারহীনতা ও প্রশাসনিক দুর্নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, অন্যান্য দেশে জনগণের দাবি ছাড়াই বড় বড় অপরাধের বিচার হলেও বাংলাদেশে বছরের পর বছর কান্নাকাটি করেও কাঙ্ক্ষিত বিচার পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনার বিচার না হওয়া এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের কোষাগার লুণ্ঠন করেছে। যা কিছু বিদেশি সাহায্য এসেছে, সবকিছু তারা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, সেই ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে পর্যন্ত টাকা চুরি করে তারা ফিলিপাইন নিয়ে গেছে। ফিলিপাইনে যারা এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা এখন সবাই কারাগারে আছে। কিন্তু এ ঘটনায় জড়িত বাংলাদেশের কারও কোনো বিচার হয়নি।’

হতাশা প্রকাশ করে স্পিকার বলেন, ‘আমাদের...অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। এগুলো নানা ধরনের ঘুষখোরি, লুটপাট এসব করে; যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।’

‘যেসব অন্যায়-অবিচারের বিচার সব দেশে জনগণের চাওয়া ছাড়াই হয়। বাংলাদেশে দিনরাত কান্নাকাটি, বছরের পর বছর কান্নাকাটি করেও এই অপরাধের কোনো বিচার তাদের হয় না,’ যোগ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের নেতা, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা ‘লুটপাট করে দেশের সর্বনাশ করে দিয়েছে’ উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলের একটা প্রতিমন্ত্রী জাবেদ (সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী); তার ৩৬০টা বাড়ি পাওয়া গেছে লন্ডনেই। দুবাইয়ে বাড়ি আছে, আমেরিকায় বাড়ি আছে। সব বাংলাদেশের সম্পদ, আপনার-আমার টাকা, জনগণের টাকা লুণ্ঠন করে তারা এভাবে নিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এখনো প্রশাসনে তাদের বেশ কিছু লোক বসে আছে, যে জন্য প্রকৃত চিত্র এখনো জনগণের কাছে ভালোভাবে পৌঁছাচ্ছে না।’

বিশেষ করে বাংলাদেশ ভালো থাকুক, সেটা প্রতিবেশী রাষ্ট্র চায় না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা আমাদেরকে একটা করদ রাজ্য বানাবার চেষ্টা করছে। আগের (আওয়ামী লীগ) সরকার ১৬-১৭ বছরে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ না দেখে, ওই প্রতিবেশীর স্বার্থই দেখেছে। অনেকগুলো অসম চুক্তি করেছে, যে চুক্তির ফলে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে।’

উদাহরণ হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যেমন চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতীয় জাহাজ এলে অন্য সব জাহাজ, এমনকি বাংলাদেশের জাহাজগুলোকেও (বন্দর) খালি করে দিতে হবে। আগে তাদেরটা (প্রতিবেশী রাষ্ট্রের) আনলোড করবে, তারপরে এখানকার আমদানিকারকেরা জাহাজ খালাস করার সুযোগ পাবে।’

‘তারা (ভারত) অনেক মালামাল আমাদের ভূমির ওপর দিয়ে নিয়ে যায়। এই মালামালের জন্য যে শুল্ক দেওয়া উচিত, তা তারা সঠিকভাবে দেয় না,’ বলেন স্পিকার।

প্রতিবেশী সীমান্তে প্রতিদিন মানুষ হত্যা করছে অভিযোগ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গেও তাদের বর্ডার আছে। ওইখানে তো কাউকে কোনো দিন গুলি চালানো হয় না। কিন্তু এখানে নিরীহ মানুষকে...পত্রিকা খুললে, টেলিভিশন খুললে দেখবেন আহত-নিহত হয়েছে।’

এই পরিস্থিতির জন্য ‘আওয়ামী লীগ, তাদের চেলাচামুণ্ডা, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা দায়ী’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা বাংলাদেশের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে, নিজেদের ভাগ্য গড়ার জন্য, চুরি-চামারি করার জন্য এভাবে আমাদের দেশকে আরেক দেশের সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে।’