রবিবার

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

সর্বশেষ
বুকে সৎ সাহস থাকলে পালিয়ে থাকার দরকার নাই শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ভারতে মোদীর নৈশভোজে অংশ নেননি চীনের প্রেসিডেন্ট, কূটনৈতিক অঙ্গনে তীব্র জল্পনা ও কৌতূহল আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট অবৈধ ঘোষণা করলো হাইকোর্ট বাক-স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষায় সচেতন সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও গবেষণায় বড় বরাদ্দের পরিকল্পনা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না: মীর শাহে আলম শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের আট দফা দাবিতে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি আদানির বিকল ইউনিট সচল, দুপুরে বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ

আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট অবৈধ ঘোষণা করলো হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:০৭

শেয়ার

আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট অবৈধ ঘোষণা করলো হাইকোর্ট
ছবি: সংগৃহীত

আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের হরতাল-ধর্মঘট-কর্মবিরতি আহ্বানকে 'অবৈধ ও সংবিধানবিরোধী' ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালতের রায় বা আদেশের প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘট কিংবা হরতাল ডাকা হলে সংশ্লিষ্ট বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনগত ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রবিবার বিচারপতি শশাঙ্ক কুমার সরকার ও বিচারপতি ফয়সল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে আদালত বলেন, সংবিধানের ১১২ আর্টিকেল অনুযায়ী, দেশের সব নির্বাহী ও বিচারিক কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের রায় ও আদেশ পালনকরা বাধ্যতামূলক।

কোনো রায় বা আদেশে কোনো পক্ষ ক্ষুব্ধ হলে আপিল বা অন্য কোনো আইনানুগ প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সেই রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট-কর্মবিরতি আহ্বানের কোন সুযোগ নেই।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মসূচি বিচার বিভাগের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদালতের রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের আগস্টে, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ‘ডিলাক্স পরিবহন’-এর একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, সাংবাদিক ও সম্প্রচারক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। এ ঘটনায় করা মামলায় বাসচালককে, ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, সাজা দেন মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

ওই সাজাকে কেন্দ্র করে বাস মালিকেরা পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল ডাকেন। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে রিট করে।

রিটের শুনানি নিয়ে, ২০১৭ সালের ১ মার্চ, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুল জারির পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট ও হরতাল প্রত্যাহার এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। পরদিন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

পরে ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি শশাঙ্ক কুমার সরকার ও বিচারপতি ফয়সল হাসান আরিফের বেঞ্চ রুলটি অ্যাবসোলিউট ঘোষণা করে এ রায় দেন।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি আদালতকে বলেন, আদালতের রায় ও নির্দেশনা পালন সংশ্লিষ্ট সবার জন্য বাধ্যতামূলক। কোনো রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ থাকলেও সেই রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকার সুযোগ নেই। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।