দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন ও গবেষণায় বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে সবার জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবন: সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় আর গতানুগতিক পদ্ধতিতে চলার সুযোগ নেই। ধনী-গরিব সবার জন্য মানসম্মত, সাশ্রয়ী ও সমতাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিবান্ধব আধুনিক স্বাস্থ্য খাত গড়ে তোলা প্রয়োজন।
জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য কার্ড
সরকার ২০ কোটি নাগরিকের জন্য জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য কার্ড এবং নির্দিষ্ট রেফারেল নেটওয়ার্ক চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
হাসপাতালে রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি কমাতেও প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সকাল ৮টায় হাসপাতালের ফটক খোলার পর শত শত অসুস্থ মানুষ টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়ান। এ সমস্যা সমাধানে অ্যাপভিত্তিক নির্দিষ্ট সময়ের স্লট অনুযায়ী সিরিয়াল ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। তরুণ প্রযুক্তিবিদ ও উদ্ভাবকদের তৈরি আধুনিক অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত এ ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব।
সরকারি হাসপাতালের ওষুধ বাইরে বিক্রি বা সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম ঠেকাতেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং চালুর কথা বলা হয়েছে।
গবেষণাকে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে দেখার আহ্বান
গবেষণাকে ব্যয় হিসেবে না দেখে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বাজেটে তরুণ চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য বিশেষ গবেষণা তহবিল রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের সক্ষমতা বাড়ানো এবং সরকারের উদ্যোগে আধুনিক মলিকিউলার ল্যাব স্থাপনের কাজও চলমান রয়েছে।
এলডিসি উত্তরণ ও ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়েও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ম্যাচ্যুরিটি লেভেল ৩ বা এমএল-৩ অর্জনের লক্ষ্যে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানো ও পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
ডেঙ্গু ও সংক্রামক রোগ কমাতে আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি এবং লার্ভা নির্মূলের বিভিন্ন পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে টিকা উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে জাতীয় ভ্যাকসিন গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদেশে থাকা বিজ্ঞানীদের যুক্ত করার উদ্যোগ
বিদেশে কর্মরত সফল বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়নে যুক্ত করতে ব্রেন সার্কুলেশনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় ওষুধ শিল্পের জন্য নীতিগত সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সরকার।
আরও পড়ুন:







