শনিবার

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩

ইউনাইটেড গ্রুপের কব্জায় দেশের জ্বালানি খাত!

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:২২

শেয়ার

ইউনাইটেড গ্রুপের কব্জায় দেশের জ্বালানি খাত!
ছবি বাংলা এডিশন

বিগত পনেরো বছরে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত পরিণত হয়েছিল সীমাহীন লুটপাট আর অর্থপাচারের এক অভয়ারণ্যে। আওয়ামী লীগ সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চাদরে ঢেকে রেখেছিল তাদের এই মহাদুর্নীতি। সাধারণ মানুষ যখন এই লুটপাট নিয়ে মাথা ঘামানো প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল, ঠিক তখনই সোমবার (৫ আগস্ট) ঘটে পটপরিবর্তন।

কিন্তু ক্ষমতার পালাবদল হলেও, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভাগ্য বদলায়নি এতটুকুও। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা গ্রহণের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন সাবেক আমলা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে, যিনি ছিলেন বিগত সরকারের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

আওয়ামী আমলের দুর্নীতির অভিযোগ

আওয়ামী আমলে এই মন্ত্রণালয়ের একাধিক প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফাওজুল কবিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউনূস সরকার বেসরকারি খাতে লাইসেন্স পাওয়া অচল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা যাচাই এবং অলস বসে থাকা কেন্দ্রগুলোর লাইসেন্স বাতিলের হুংকার দিলেও, বাস্তবে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

নেপথ্যে ছিল মোটা অঙ্কের লেনদেনের খেলা। উল্টো, ২০১০ সালের কুখ্যাত ‘দায়মুক্তি আইন’ বাতিলের নামে জারি করা হয় এক হাস্যকর ও প্রতারণামূলক অধ্যাদেশ। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট বলা হয়, দায়মুক্তির অধীনে সম্পাদিত সব চুক্তি অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ, বিনা দরপত্রে কাজ দেয়ার সেই লুটপাটের পথ সযতনে খোলা রাখা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ের ভয়াবহ লোডশেডিং কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি ইউনূস সরকারের এক পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ, যার মূল লক্ষ্য একটি নির্বাচিত সরকারকে জনরোষের মুখে ফেলা।

বিদ্যুৎ খাতে দেউলিয়াত্বের অভিযোগ

দেড় বছরের শাসনামলে ইউনূস ও ফাওজুল মিলে বিদ্যুৎ খাতকে আক্ষরিক অর্থেই দেউলিয়া করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়লা, গ্যাস ও ক্যাপাসিটি চার্জের বকেয়া মেটায়নি তারা। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন বিদ্যুৎ খাতে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে কেবল বেসরকারি কোম্পানিগুলোর পাওনাই ১৪ হাজার কোটি টাকা।

বেসরকারি উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের জুলাই মাসের পর থেকে দীর্ঘ আট মাস ইউনূস সরকার আর কোনো বিল পরিশোধ করেনি। কয়লা ও গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক কেন্দ্রের উৎপাদন। পরিকল্পিতভাবে এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই বিদ্যুৎ নিয়ে তীব্র জনরোষের মুখে পড়ে।

প্রশ্ন উঠেছে, ইউনূস কি তাহলে আরও দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই বিদ্যুৎ খাতকে আইসিইউতে পাঠিয়েছিলেন?

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দ্বৈত নীতি

দায়মুক্তির খোঁড়া যুক্তিতে ইউনূস সরকার দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে রীতিমতো খাদের কিনারে ঠেলে দেয়। জাতীয় গ্রিডে যখন নবায়নযোগ্য উৎস থেকে দিনে সর্বোচ্চ ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছিল, ঠিক তখনই দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক মাসের মাথায় ফাওজুল কবির খানের নির্দেশে বাতিল করা হয় ৩ হাজার ২৮৭ মেগাওয়াট সক্ষমতার ৩৭টি সরকারি, বেসরকারি ও যৌথ উদ্যোগের বিদ্যুৎকেন্দ্র।

এর মধ্যে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চব্বিশের মে পর্যন্ত ইস্যুকৃত এলওআই-এর আওতায় ছিল ২৭টি সৌরবিদ্যুৎ, ৩টি বায়ুবিদ্যুৎ এবং ১টি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প। বাতিল করা হয় কাপ্তাই, বড়পুকুরিয়া, রাঙ্গুনিয়া, মহেশখালী, ইনানী ও চাঁদপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দরপত্র মূল্যায়নাধীন থাকা প্রকল্পগুলোও।

অথচ, অবাক করা বিষয় হলো, পরিবেশ ও বিশ্ব ঐতিহ্য বিধ্বংসী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের কোনো উদ্যোগই নেয়নি এই সরকার। বাতিলকৃত কেন্দ্রগুলোর লাইসেন্স ফেরত পেতে দেশিবিদেশি বিনিয়োগকারীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও কোনো লাভ হয়নি। উল্টো নতুন করে ৫ হাজার ২৩৮ মেগাওয়াট সক্ষমতার দরপত্র আহ্বান করা হলেও, 'সভরেন গ্যারান্টি' না থাকায় সাড়া মেলে মাত্র ৯০০ মেগাওয়াটের।

এই দ্বৈত নীতির কারণেই বর্তমান বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু মন্তব্য করেছেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের বিদ্যুৎ খাতকে আইসিইউতে পাঠিয়ে দিয়েছে।

তবে, এই বিপর্যয় থেকে বাঁচতে বর্তমান সরকার বাতিল হওয়া ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের এলওআই পুনর্বহালের উদ্যোগ নিয়েছে।

আর্জেন্ট এলএনজি চুক্তি ও অর্থপাচারের অভিযোগ

লুটপাটের এই ধারাবাহিকতায় ড. ইউনূসের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে গত বছরের জানুয়ারিতে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে সফরের সময়, চব্বিশে জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘আর্জেন্ট এলএনজি’-এর সাথে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির এক নন-বাইন্ডিং চুক্তি করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডা।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, জ্বালানি খাতের এত বড় একটি চুক্তির বিষয়ে কিছুই জানত না খোদ পেট্রোবাংলা। কোনো টেন্ডার ছাড়া, সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় করা এই চুক্তি ছিল পুরোপুরি আওয়ামী স্টাইলের। ঘন ঘন নষ্ট হওয়া এলএনজি টার্মিনালের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে গ্যাস সরবরাহকে আরও বাধাগ্রস্ত করার এক সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত এটি, যার মাধ্যমে ইউনূস নিজেই লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির বীজ বোনা হয়েছিল অনেক আগেই। ২০০৯ সালে আবুল কালাম আজাদ কুইক রেন্টাল আর ক্যাপাসিটি চার্জের ফাঁদ পাতলেও, ২০১৬ সালে এসে সেই কর্তৃত্ব গুঁড়িয়ে দেন ধুরন্ধর আমলা ও তৎকালীন বিদ্যুৎ সচিব আহমদ কায়কাউস। দায়িত্ব নিয়েই তিনি ৬৮টি কুইক রেন্টালের বিল আটকে দেন।

উদ্দেশ্য তদন্ত নয়, বরং ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়। অন্যান্য দুর্নীতিবাজদের সাথে কায়কাউসের পার্থক্য ছিল একটাই, দেশে তিনি কোনো ঘুষ নিতেন না বলে জানা গেছে। স্ত্রী-কন্যাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে রেকর্ড ৫২ বার ওয়াশিংটন সফর করেন তিনি। সেখানে 'কে কে কনসালট্যান্ট'সহ অন্তত আটটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাচার করেন বিদ্যুৎ খাতের প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩ সালে মার্কিন আদালতে এফিডেভিট দিয়ে ১২ মিলিয়ন ডলার বৈধও করে নেন এই আমলা।

ইউনাইটেড গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ

তবে, অভিযোগ উঠেছে, এই দুর্নীতির পালে সবচেয়ে বেশি হাওয়া জুগিয়েছে প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী ‘ইউনাইটেড গ্রুপ’। সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর প্রত্যক্ষ সহায়তায় রীতিমতো আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যায় প্রতিষ্ঠানটি।

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির ২০ শতাংশ সরকারি শেয়ার আত্মসাৎ করে জমির দাম কম দেখিয়ে শেয়ার ৯১ শতাংশে উন্নীত করে তারা। এতে রাষ্ট্র বঞ্চিত হয় অন্তত এক হাজার কোটি টাকার আয় থেকে। যায় যায়, বিনিময়ে নসরুল হামিদকে ঢাকার একশো ফিট সড়কের পাশে নামমাত্র মূল্যে রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয় দেড়শো কোটি টাকা মূল্যের ৮০ কাঠা জমি।

আরো অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার জোরে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রকে 'আইপিপি' বানিয়ে সাধারণ গ্রাহকের কাছে চড়া দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করেছে ইউনাইটেড গ্রুপ।

এছাড়া, অভিযোগ অনুযায়ী অলস কেন্দ্র বসিয়ে রেখে শুধু 'ক্যাপাসিটি চার্জ' হিসেবেই পিডিবি থেকে তারা তুলে নিয়েছে ৭ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা, যা বিদ্যুৎ খাতের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লুটপাট।

দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অবৈধভাবে আইপিপি রেট সুবিধা নিয়ে তিতাস ও কর্ণফুলী গ্যাসের প্রায় ৯৮১ কোটি ৬৭ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছে তারা। পাশাপাশি এনবিআরের অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের কাছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করে ৬০০ কোটি টাকা আয় করলেও তা গোপন রাখে ইউনাইটেড। ফাঁকি দেয়া হয় ৩০ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স।

সেইসাথে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ‘ইউনাইটেড ময়মনসিংহ পাওয়ার লিমিটেড’ প্রায় ৯৩৭ কোটি ৮৯ লাখ এবং ‘ইউনাইটেড এনার্জি লিমিটেড’ ফাঁকি দেয় ৩২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে কর ফাঁকির পরিমাণ ১ হাজার দুইশো ৬০ কোটি টাকার বেশি। সুপ্রিম কোর্টে মামলা ঝুলিয়ে রেখে ব্যক্তিগতভাবে ৪০ কোটি টাকা ফাঁকি দিয়েছেন গ্রুপের চার পরিচালক।

আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী এই ইউনাইটেড গ্রুপকে নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা সবচেয়ে রহস্যজনক। পটপরিবর্তনের পরও রাষ্ট্রক্ষমতাকে রীতিমতো বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বীরদর্পে দাঁড়িয়ে আছে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানটি।

জানা গেছে এখনো, এই গ্রুপটিকে বিনা বাধায় পাইয়ে দেয়া হচ্ছে একের পর এক টেন্ডার। অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে তাদের এই অটুট বন্ধুত্বের নেপথ্য কারণ খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, প্রায় বছর দেড়েক আগে এক উপদেষ্টার ছেলের রাজকীয় বিয়ের আসর বসেছিল খোদ এই 'ইউনাইটেড ক্লাব হাউস'-এ। সমালোচনা রয়েছে, ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কারণেই ইউনাইটেড গ্রুপকে সমস্ত অনৈতিক সুবিধা অকাতরে বিলিয়ে দেয়া হয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টার ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ। আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী ইউনাইটেড গ্রুপকে অন্যায্য সুবিধা দেয়া এবং সাবেক সরকারের নীতি অনুসরণ করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

মানবতাবিরোধী অভিযোগ ও হত্যা মামলা

কেবল অর্থ লোপাটই নয়, ইউনাইটেড গ্রুপের বিরুদ্ধে রয়েছে মানবতাবিরোধী সব ভয়ংকর অভিযোগ। সেনানিবাসের শহিদ মইনুল হক সড়কের বাড়ি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ কিংবা ১/১১-এর বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা আফজাল নাছেরকে পুনর্বাসনের নেপথ্য কারিগরও ছিল তারা। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আব্দুল মুবীনের সুপারিশেই ইউনাইটেড গ্রুপে আফজাল নাছেরের চাকরির ব্যবস্থা হয়।

গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালের 'হেলমেট বাহিনী' দিয়ে হামলা, শিশু আয়ানের মৃত্যু কিংবা খালেদা জিয়াকে চিকিৎসাসেবা না দেয়ার মতো অমানবিক নানা কাজও করেছে ইউনাইটেড।

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দুইবারের বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির তৎকালীন প্রধান বেগম খালেদা জিয়া। কারাবাসকালে চরম শারীরিক অসুস্থতার মুহূর্তেও তাঁকে উপযুক্ত ওষুধপত্র কিংবা জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক।

একইসঙ্গে, তৎকালীন সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বাধা প্রদান ও এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে যারা জড়িত ছিল, তাদের সবাইকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক।

জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যায় অর্থায়নের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ইউনাইটেড গ্রুপের বিরুদ্ধে। প্রগতি সরণিতে নিহত বাহাদুর হোসেন মনি হত্যা মামলাসহ মোট পাঁচটি হত্যা মামলার আসামি ইউনাইটেড গ্রুপের কর্ণধার হাসান মাহমুদ রাজা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনউদ্দিন হাসান রশিদ সানজারী। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) আদালত তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিলেও, তারা রয়ে গেছেন সম্পূর্ণ ধরাছোঁয়ার বাইরে।

দেশে আইনের শাসন ভেঙে পড়ে 'জঙ্গলরাজ' চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা মেজর (অব.) ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলায় ইউনাইটেড গ্রুপের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

সরকার আসে, সরকার যায়। বদলায় শুধু দুর্নীতির মোড়ক আর সুবিধাভোগীদের চেহারা। রাষ্ট্রক্ষমতার চেয়ে কি তবে কর্পোরেট সুবিধাভোগীরাই বেশি শক্তিশালী? এই প্রশ্নের উত্তর না মিললে, লুটপাটের এই অশুভ পরম্পরা হয়তো চলতেই থাকবে অনন্তকাল। আর দেশে তৈরি হবে, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ অধিক প্রয়োজনীয় জিনিসের নানা সংকট।