জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর শেষ পর্যন্ত পরিশোধ করতেই হচ্ছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ কল্যাণ’কে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের নতুন বেঞ্চ কর ফাঁকির রিট চূড়ান্তভাবে খারিজ করে এই রায় দেয়।
আইনি লড়াইয়ের ইতিহাস
২০১২ থেকে ২০১৭ সাল-এই পাঁচ করবর্ষের পাওনা নিয়ে এনবিআরের দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে আইনি লড়াই শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। গত ৪ আগস্ট তৎকালীন একটি বেঞ্চ প্রথমে রিটটি খারিজ করলেও, পরদিন ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতন হয়। এরপর অভাবনীয় এক আইনি পদক্ষেপে ২৯ আগস্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে সেই রায়টি প্রত্যাহার করে নেয় আদালত। অবশেষে, প্রধান বিচারপতির হাত ঘুরে নতুন বেঞ্চে নিষ্পত্তি হলো এই হাই-প্রোফাইল মামলার।
গ্রামীণ কল্যাণের জন্ম ও বিতর্ক
তবে এই ‘গ্রামীণ কল্যাণ’-এর জন্ম ও কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। এর আগেই অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের ফিফটিন মিনিটসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ ও কর ফাঁকি দেয়ার এসব গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়। হাইকোর্টের এই রায়ের মাধ্যমে সেসব যেন আরো স্পষ্ট হলো। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার ফাঁকে গ্রামীণ ব্যাংকের কোম্পানি আইনের আওতায় জন্ম হয় গ্রামীণ কল্যাণ প্রতিষ্ঠানটির।
অভিযোগ রয়েছে, সে সময় গ্রামীণ ব্যাংকের ‘সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ড’ থেকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ৬৯ কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয় গ্রামীণ কল্যাণে।
আর একে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেই পরবর্তীতে গড়ে তোলা হয় আরও ১৩টি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান।
কর ফাঁকির অভিযোগ ও কৌশল
রাষ্ট্রের কর ফাঁকি দিতে, নেয়া হয়েছিল অভিনব সব কৌশল। ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে আসা ১১৮ কোটি টাকার বিদেশি অনুদানের আয়কর এড়াতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় সব অর্থ ‘ইউনূস ট্রাস্ট’ নামে নতুন একটি করমুক্ত প্রতিষ্ঠানে সরিয়ে নেন ড. ইউনূস।
অভিযোগ অনুযায়ী, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারের ১৫ শতাংশ কর ফাঁকি দেয়া। এছাড়া গ্রামীণ ট্রাস্টের মাত্র ১ হাজার ইউরো বিনিয়োগ দেখিয়ে লুক্সেমবার্গে ৬৫০ কোটি টাকা মূলধনের বিশাল ফাউন্ডেশন গড়ার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে এসেছে ওই অনুসন্ধানে।
দীর্ঘ আইনি ও আর্থিক এই গোলকধাঁধায় হাইকোর্টের রবিবারের রায় একটি বড় নির্দেশনা। বিশাল অঙ্কের এই রাজস্ব শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের কোষাগারে কীভাবে জমা হয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
আরও পড়ুন:







