শনিবার

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩

সংকটেও বন্ধ ৩৭ বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাড়ছে লোডশেডিং

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:২৬

শেয়ার

সংকটেও বন্ধ ৩৭ বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাড়ছে লোডশেডিং
ছবি এআই মাধ্যমে তৈরি

দেশজুড়ে চলছে তীব্র লোডশেডিং। বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় গ্রাহকের ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। গ্যাস ও কয়লার সংকটে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টাও করছে।

তবে এ সংকটজনক পরিস্থিতিতেও দেশের ৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। জ্বালানিসংকট, মেয়াদ শেষ হওয়া ও যান্ত্রিক ত্রুটিই এর প্রধান কারণ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকার সময়মতো মেয়াদোত্তীর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ব্যবস্থা এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কাজ সম্পন্ন না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য এবং অনুসন্ধানে বিষয়টি জানা গেছে।

বন্ধ থাকা ৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে সরকারি ২৩টি এবং বেসরকারি ১৪টি। জ্বালানিসংকটের কারণে বর্তমানে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম। এ ক্ষেত্রে ২০ সেপ্টেম্বরের পর কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটি ও জ্বালানির অভাবে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ আছে। সেগুলো ঠিক করতে কাজ চলছে। জ্বালানির অভাবে পায়রায় একটি ও রামপালে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি, বিশেষ করে কয়লার অভাব গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের উচিত কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং এটি করা সম্ভব। কয়লার অভাবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ চালু করা যাচ্ছে না, এটিও গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেগুলো মূলত তেলভিত্তিক কেন্দ্র। সরকার তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনেক কেন্দ্র জ্বালানির অভাবে বন্ধ হয়ে আছে এবং বেসরকারি খাতকে অর্থ দেওয়া হয়নি। সেগুলোতে এখন কিছু অর্থ পরিশোধ করে উৎপাদনে আনার চেষ্টা করছে সরকার।

সূত্রে জানা গেছে, দেশে ১৩৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। মূলত জ্বালানিসংকট, বেশ কিছু কেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই বর্তমানে ৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। আবার জ্বালানিসংকটের কারণে চালু থাকা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কেন্দ্রের উৎপাদনও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।

বর্তমানে সব মিলিয়ে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াটে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছিল ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট।

সরকারি-বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর মধ্যে দেশের বাইরে থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ ছাড়া ১৩৩টি কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা ১৯ হাজার ৫৩৭ মেগাওয়াটের বেশি। বর্তমানে বন্ধ থাকা ৩৭টি কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা ৭ হাজার ২৬৯ মেগাওয়াট।

পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বলেন, অনেক সময় জ্বালানি দিতে না পারায় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকে। সম্প্রতি দেশে গ্যাসের বরাদ্দ কমে গেছে। এজন্য অনেক কেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না। তেল দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তেল সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না, এটি আমদানি করতে হয়। বিপিসিও এ মুহূর্তে তেল নিয়ে সংকটে আছে। কোম্পানিগুলোকেও অর্থ দেওয়া হয়েছে। তেল আমদানি করতেও ১৫-২০ দিন লাগে। বন্ধ থাকা অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০ সেপ্টেম্বরের পর চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেসব কেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেগুলো নবায়নের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যেগুলো চালু আছে, সেগুলোর ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ঢাকা ও আশপাশে ১৫ কেন্দ্র বন্ধ

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের তথ্যে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ১৫টি সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ ছিল। এর মধ্যে ঘোড়াশাল রিপাওয়ার্ড সিসিপিপি ইউনিট-৩, ঘোড়াশাল রিপাওয়ার্ড সিসিপিপি ইউনিট-৪, ঘোড়াশাল টিপিপি ইউনিট-৫, ঘোড়াশাল ৩৬৫ মেগাওয়াট সিসিপিপি ইউনিট-৭ গ্যাসসংকটের কারণে এবং ঘোড়াশাল ১০৮ মেগাওয়াট পিপি (রিজেন্ট) গ্যাস সমস্যায় বন্ধ ছিল।

গ্যাস সমস্যায় বন্ধ রয়েছে হরিপুর জিটিপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্র। হরিপুর ৩৬০ মেগাওয়াট সিসিপিপি (এইচপিএল) এবং মেঘনাঘাট ৪৫০ মেগাওয়াট সিসিপিপি (এমপিএল) বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বন্ধ। মেঘনাঘাট সিসিপিপি (সামিট) বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস এবং সিদ্ধিরগঞ্জ ২১০ মেগাওয়াট টিপিপি সংস্কারের জন্য বন্ধ রয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট সিসিপিপি গ্যাসসংকট এবং গাগনগর ১০২ মেগাওয়াট পিপি তেলসংকটে বন্ধ রয়েছে। টঙ্গী ৮০ মেগাওয়াট জিটিপিপি সংস্কারের কারণে এবং মেঘনাঘাট ১০৪ মেগাওয়াট পিপি (ওপিসিএল) তেলসংকটে বন্ধ। মেঘনাঘাট সিসিপিপি (সামিট)-২-এরও উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

কুমিল্লায় দুই বছর ধরে বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্র

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এর তথ্যে কুমিল্লায় চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে একটি সরকারি ও তিনটি বেসরকারি। তিনটি বেসরকারি কেন্দ্রের একটি এখন বন্ধ। কুমিল্লার কোটবাড়ীতে অবস্থিত সামিটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এখানে ৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। কেন্দ্রটি দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কুমিল্লা অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন।

সিলেটে গ্যাসসংকটে কমেছে উৎপাদন

সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলায় রয়েছে ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র। এগুলোর সম্মিলিত স্থাপিত ক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে পুরো সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। কোনোটি আংশিক উৎপাদনে, কোনোটির উৎপাদন শূন্যের কোঠায়। আর একটি কেন্দ্র দীর্ঘদিন বিকল।

উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে গ্যাসের অভাব ও প্ল্যান্টগুলোর যান্ত্রিক সক্ষমতা কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিপিডিবির তথ্যমতে, সিলেটে বিবিয়ানা থেকেই সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্রিড লাইনে সরবরাহ হচ্ছে। তবে শাহজীবাজারের ১০০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন কেন্দ্রটি প্রায় ছয় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।

খুলনায় জ্বালানি ও চুক্তি সংকট

খুলনার পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ৫৭৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা না থাকায় রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনের পর চালুই করা যায়নি।

সামিট ও ইউনাইটেড গ্রুপের মালিকানার খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (কেপিসিএল) ১১৫ মেগাওয়াট ফার্নেস অয়েল প্ল্যান্টটিও দীর্ঘদিন বন্ধ। নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট ভিত্তিক এ কেন্দ্রটি ২০২৪ সালের পর অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তি নবায়ন না করায় বন্ধ রয়েছে।

অরিয়ন গ্রুপের মালিকানার রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানিসংকটে উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি হাই স্পিড ডিজেলচালিত খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ও খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট ডুয়েল-ফুয়েল পাওয়ার প্ল্যান্ট দুটির উৎপাদনক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক ক্ষতি এড়াতে শুধু পিক আওয়ারে চালানো হয়।

বরিশালে ২৫-৩০ শতাংশ লোডশেডিং

বরিশাল বিভাগে নয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। বরিশাল মহানগরের ৪০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং ভোলা সদর উপজেলার খেয়াঘাটে রেন্টাল ৩৪ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের বরিশালের গ্রিড মেইনটেন্যান্স ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান পলাশ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হয়। সেখান থেকে সারা দেশে বিতরণ করা হয়। বরিশাল বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা ৫৬০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ২৫-৩০ শতাংশ লোডশেডিং দিয়ে সমন্বয় করা হয়।

রংপুরে সাত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

রংপুর বিভাগের আট জেলায় ১১টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে সাতটি সক্ষমতা হারিয়ে বন্ধ রয়েছে। জ্বালানিসংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি ও উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় কেন্দ্রগুলো বন্ধ। যেগুলো চালু রয়েছে, সেগুলো সক্ষমতার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে। ফলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা দিনদিন বাড়ছে।

সূত্রমতে, বড়পুকুরিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদনের তিনটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এ তিনটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ছিল ৫২৫ মেগাওয়াট। কয়লাসংকট ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বড়পুকুরিয়ার একটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে বড়পুকুরিয়ায় দুই ইউনিটে যথাক্রমে ১৪০ ও ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা ১১৩ মেগাওয়াট। ওই কেন্দ্রটি সক্ষমতার ৪০ শতাংশের কম উৎপাদন করতে পারছে। তেল পেলে চলে, না পেলে বন্ধ থাকে। এটি জ্বালানিসংকটের কারণে হয়েছে।

সৈয়দপুরে ১৫০ মেগাওয়াট ও ২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এ দুটি তেলের ওপর নির্ভরশীল। তেল পেলে চলে। রংপুরের ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) রংপুর বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের অভাবে অনেক সময় সংশ্লিষ্টরা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখেন।

রাজশাহীতে চার কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ

রাজশাহী বিভাগে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল কেন্দ্র সিরাজগঞ্জ। পাশাপাশি পাবনা, বগুড়া, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীতে সরকারি, বেসরকারি, পিকিং ও সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।

১৯টি কেন্দ্রের মধ্যে উৎপাদনে আছে ১৪টি। চারটি পুরোপুরি বন্ধ। পাবনার বাঘাবাড়ীর ৭১ ও ২০০ মেগাওয়াটের দুটি সরকারি এবং ২০০ মেগাওয়াটের একটি বেসরকারি কেন্দ্র চুক্তির কারণে এখন উৎপাদনে নেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরার ৫০ মেগাওয়াটের বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় উৎপাদনে নেই।

নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক (পিঅ্যান্ডডি) সাইফুল ইসলাম জানান, গ্যাসভিত্তিক ইউনিটগুলোতে প্রয়োজনীয় সরবরাহ থাকলে নিয়মিত উৎপাদন সম্ভব। গ্যাস না পাওয়ায় সব সময় চালু রাখা যাচ্ছে না।

ময়মনসিংহে গ্যাসসংকটে বন্ধ ২১০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র

ময়মনসিংহ বিভাগে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ছয়টি কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। ময়মনসিংহ ও জামালপুরে থাকা এসব কেন্দ্রের মোট উৎপাদনক্ষমতা ৫৯৮ মেগাওয়াট। এর মধ্যে তিনটি তাপভিত্তিক কেন্দ্রের সক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। বাকি তিনটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা ৭৩ মেগাওয়াট।

তবে স্থাপিত সক্ষমতার পুরোটা সব সময় উৎপাদনে থাকছে না। কোনো দিন বড় কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকছে, কোনোটি চলছে আংশিক সক্ষমতায়। অন্যদিকে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো কেবল দিনের আলোতেই উৎপাদন করতে পারছে।

বিভাগের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) ২১০ মেগাওয়াটের কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র। গ্যাসসংকটের কারণে বর্তমানে কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রকৌশলী সাজ্জাদ হায়দার খান।

সূত্র বলছে, প্রায় দুই মাস ধরে সরকারি এ কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিদিনই ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।

চট্টগ্রামে গ্যাসসংকটে বন্ধ চার কেন্দ্র

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটিতে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ২৯টি। এগুলোর সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু গ্যাসসংকটে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে চারটি কেন্দ্র। আর ফার্নেস অয়েল ও অন্যান্য জ্বালানিসংকটে আরও অন্তত আটটি কেন্দ্রের উৎপাদন তলানিতে।

ফলে এসব কেন্দ্রের উৎপাদন ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের মধ্যে নেমে এসেছে। পিডিবি সূত্র জানিয়েছে, গ্যাসচালিত কেন্দ্রের মধ্যে রাউজান-১, রাউজান-২, বেসরকারি দেশ এনার্জি এবং ইউনাইটেড পাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

এর মধ্যে রাউজান বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৫০ মেগাওয়াটের আরেকটি ইউনিটও জেনারেটরের ত্রুটির কারণে বন্ধ। এ ছাড়া চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় সচল আরও কয়েকটি কেন্দ্রের উৎপাদনও কমে গেছে।

পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী (উৎপাদন) মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্যাস সরবরাহ না থাকায় চট্টগ্রামের কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ থাকলে এসব কেন্দ্র উৎপাদনে যেতে পারবে। এ ছাড়া রাউজানের ত্রুটিযুক্ত ইউনিটও সচল করে পুনরায় উৎপাদনে যাওয়া যাবে।

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট অতিক্রম করেছিল। এরপরই ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার পর ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।

এর ফলে আগে থেকেই সংকটে থাকা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপের মুখে পড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে লোডশেডিং।

বয়লারে সমস্যা দেখা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতের দিকে ৮০০ মেগাওয়াটের ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। কয়লা পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার কারণে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পর এই কেন্দ্রটি যখন সবেমাত্র উৎপাদন বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, ঠিক তখনই একটি ইউনিট বন্ধ হলো।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) একাধিক কর্মকর্তা এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারে সমস্যার কারণে মধ্যরাতের দিকে ইউনিটটি হঠাৎ বন্ধ করতে হয়। এক কর্মকর্তা জানান, মেরামতের কাজ শুরু করতেই অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। তিনি আরও বলেন, ইউনিটটি পুনরায় সচল করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।