শনিবার

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩

দিল্লির বলয় পেরিয়ে ইসলামাবাদের সাথে সুসম্পর্ক ঢাকার!

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৯

শেয়ার

দিল্লির বলয় পেরিয়ে ইসলামাবাদের সাথে সুসম্পর্ক ঢাকার!
ছবি বাংলা এডিশন

গত, ১৭ বছর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি যেন আটকে ছিল এক নির্দিষ্ট মেরুকরণে। সমালোচনা রয়েছে, ফ্যাসিস্ট আমলে ঢাকা যেন ভারতের কাছে পরিনত হয়েছিল সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁসে। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে বাংলাদেশের গতিপথও। আর বিএনপির সরকারের সময়ে এসে সেই গতিপথে যুক্ত হচ্ছে একের পর এক নতুন মাত্রা। তারই দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি এবার পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসতে যাওয়া ১০০ গাড়ি।

পাকিস্তান থেকে গাড়ি রপ্তানি

জানা যায়, চলতি সেপ্টেম্বরেই পাকিস্তান থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে স্থানীয়ভাবে অ্যাসেম্বল করা ১০০টি মানসম্মত গাড়ি। চলতি বছরের গত জুলাইয়ে পাকিস্তানের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এমজিজেডডব্লিউ মোবাইল পাকিস্তান’ এবং বাংলাদেশের ‘রেনকন গ্রুপ’-এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালে ১০০টি গাড়ি আসার কথা উল্লেখ থাকলেও পরবর্তী বছর থেকে শুরু হতে পারে বড় পরিসরের বাণিজ্যিক রপ্তানি। তথ্য বলছে, সম্ভাব্য ৫ হাজার গাড়ি রপ্তানির পথ তৈরি হতে যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যে।

বিশ্লেষকদের মতে, এতে করে বাংলাদেশের আমদানিকারকের শুল্ক ব্যয় কমার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের জন্যও খুলছে টেকসই অটোমোটিভ রপ্তানির নতুন বাজার। শুধু গাড়ি রপ্তানি নয়, পাকিস্তানের এমজি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি অংশীদারকে অ্যাসেম্বলি, জেনারেল অ্যাসেম্বলি ও মান নিয়ন্ত্রণে কারিগরি সহায়তা দেবে বলেও জানা যায়।

শিক্ষা ক্রীড়া ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা

শুধু গাড়ি নয়, ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দুই দেশের সম্পর্কের পরিসরও যেন বিস্তৃতি লাভ করেছে ধীরে ধীরে। যোগাযোগ, বাণিজ্য, অর্থনীতি, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়াঙ্গনসহ নানা ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সমীকরণ।

চলতি বছরের গত জুনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। এ সময় বাংলাদেশের সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ১ হাজার ফুটবল উপহার দেয়ার কথা জানান তিনি।

এছাড়াও, বাংলাদেশের ৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য শতভাগ পর্যন্ত স্কলারশিপ দিয়ে পাকিস্তানে পড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন এবং শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফরকালে এই স্কলারশিপের ঘোষণা দেয়া হয়।

এর ফলে দেশের শিক্ষার্থীদের প্রকৌশল, চিকিৎসা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও ব্যাপ্তি হবে বলেও আলোচনা রয়েছে।

সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

বিশেষজ্ঞদের দাবি, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের এই সম্পর্ক এখন আর শুধু কূটনৈতিক সৌজন্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং শিক্ষা, ক্রীড়াঙ্গন থেকে শুরু করে বাস্তব অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক মেরুকরণেও দেখা যাচ্ছে নতুন চমক। বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-ইসলামাবাদের এই কূটনৈতিক সমীকরণই প্রমাণ করছে, গত ১৭ বছরে দিল্লির বাংলাদেশের ওপর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব এখন বিলুপ্তির পথে।