শনিবার

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১ আশ্বিন, ১৪৩৩

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং

বাংলা এডিশন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৫৫

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৫৭

শেয়ার

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে গত এক মাস ধরেই কয়লা স্বল্পতার কারণে ঘাটতি চলছিল। তবে কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর পুরোদমে উৎপাদনের দিকে যাচ্ছিল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। ফলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছিল।

কিন্তু দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশে লোডশেডিংও বেড়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র বলছে, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমায় আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত মাসের শেষ দিকে উৎপাদন বাড়িয়ে দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াট করে তারা। সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। বৃহস্পতিবার রাতে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর উৎপাদন হচ্ছে ৭৫০ মেগাওয়াটেরও কম।

বয়লারে ত্রুটি, উৎপাদন বাড়তে লাগতে পারে কয়েক দিন

ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। কেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করার রেকর্ডও রয়েছে কেন্দ্রটির।

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বয়লারে সমস্যা হয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই উৎপাদন বাড়াতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

গ্যাস ও কয়লা সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত

দুই মাসের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। গ্যাস থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। কয়লাস্বল্পতা ও কারিগরি কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

কিছুদিন ধরে পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও কারিগরি কারণে বন্ধ রয়েছে। পটুয়াখালীর আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লার স্বল্পতা আছে। বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রও কয়লার সংকটে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

এ অবস্থায় আবার আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে বিদ্যুৎ সংকটে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

পিডিবি সূত্র বলছে, জ্বালানি তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। গরম বাড়লেই লোডশেডিং বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল বেলা তিনটায়—৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। এমনকি শুক্রবার ছুটির দিন সকালেও সারা দেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে।