শনিবার

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩

ভারতের সঙ্গে পুরোনো ১০১ চুক্তিতে নজর সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪৯

শেয়ার

ভারতের সঙ্গে পুরোনো ১০১ চুক্তিতে নজর সরকারের
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তিতে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা যাচাই করে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

শুক্রবার সকালে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে সেই বন্ধুত্ব কোনোভাবেই দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হতে দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গ টেনে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে বন্দরে এলে আগে বন্ধুদেশের জাহাজ খালাস করার মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা ও চুক্তি আগের সরকার করে গেছে। দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অসংখ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার।

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ভারতের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, নয় কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়েছে। সংসদ সদস্যদের ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত বিলের মাধ্যমে মা-বাবা জীবদ্দশায় সন্তানকে সম্পদ দান করার পরও তাঁদের ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিলের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের নেতারা ওয়াকআউট করায় সরকারি দলের সদস্যরা মর্মাহত হয়েছেন।

বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, নতুন একটি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। আগের সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বিভিন্ন কেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমান সরকার আগের দায়মুক্তির ব্যবস্থা বাতিল করেছে বলেও জানান তিনি।