শনিবার

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩

একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, বাড়ল ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৫

শেয়ার

একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, বাড়ল ভোগান্তি
ছবি: সংগৃহীত

একদিকে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে বাড়ছে গরম, অন্যদিকে যান্ত্রিক ত্রুটিতে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল হয়ে পড়ছে। সর্বশেষ ভারত থেকে আসা আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট এবং দেশের আরএনপিএলের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বৃহস্পতিবার দেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং আরও বেড়েছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই সময় দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। এ সময় বিদ্যুতের চাহিদা দেখানো হয়েছে ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। তবে এটি দিনের সর্বোচ্চ চাহিদার তুলনায় অন্তত ১ হাজার মেগাওয়াট কম।

অন্যদিকে, একই সময়ে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যায়।

বিদ্যুতের হঠাৎ এই ঘাটতির কারণ জানিয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করে আদানির একটি ইউনিট আবার বন্ধ হয়ে গেছে। তারা দ্রুত তা মেরামতের চেষ্টা করছে। এর মধ্যে দেশের আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আরএনপিএলের একটি ইউনিটও বন্ধ হয়েছে। সব মিলিয়ে একযোগে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের নতুন করে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া বাদবাকি পুরোনো সমস্যাগুলো তো আগের মতোই রয়েছে।

জাতীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (এলএনডিসি) বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বুধবার রাত ১১টায় আদানির বিদ্যুৎ হঠাৎ ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট থেকে ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াট, যা এক দিন আগেও ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ছিল।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে এরই মধ্যে। যেমন আশুগঞ্জে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এক দিন আগেও ৩১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিল। কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি গতকাল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া গ্যাস-সংকটের কারণে কেবল ঢাকা অঞ্চলে বন্ধ অথবা স্বল্প সক্ষমতায় চলছে অন্তত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে একটি করে কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বিদ্যুতের এমন ঘাটতিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। মাঝে কয়েক সপ্তাহের জন্য কমে আসা লোডশেডিং আবার তীব্র আকার ধারণ করেছে। শহরাঞ্চলে দিনে চারবার করে বিদ্যুৎ গেলেও গ্রামের দিকে আবারও ৭ থেকে ১০ ঘণ্টার লোডশেডিং ফিরে এসেছে।