রবিবার

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

জোর করে ধর্ম পালনে বাধ্য করা যাবে না: স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫৫

শেয়ার

জোর করে ধর্ম পালনে বাধ্য করা যাবে না: স্পিকার
ছবি সংগৃহীত

ধর্ম পালন ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের বিষয় উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংসদ থেকে কোনো নোটিশ জারি করে কাউকে জোর করে ধর্ম পালনে বাধ্য করা যায় না। বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের বক্তব্যের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সংবিধানে আল্লাহর প্রতি ইমান পুনঃস্থাপনের দাবি

পয়েন্ট অব অর্ডারে মুজিবুর রহমান বলেন, অতীতে সংবিধানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ইমান ও আস্থার বিষয়টি ছিল। পরে তা বাতিল করা হয়েছে। দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান উল্লেখ করে তিনি সংসদে আসর ও মাগরিবের নামাজের বিরতির বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন।

তিনি সংসদ সদস্যদের আমল ও চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নামাজের বিরতির সময় যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রীয়ভাবে নামাজ ও যাকাত চালুর আহ্বান

মুজিবুর রহমান বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর মূল কাজ হওয়া উচিত সালাত কায়েম এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত ব্যবস্থা চালু করা। এর মাধ্যমে সমাজ থেকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নামাজ ও যাকাত চালুর জন্য স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনিক উদ্যোগে নামাজ কায়েম ও যাকাত ব্যবস্থা চালু হলে নাগরিকদের চরিত্র গঠনের পাশাপাশি জবাবদিহির পথও সুগম হবে।

ধর্ম পালন ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়: স্পিকার

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ধর্ম পালন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। ইসলাম মানবতার ধর্ম। সঠিকভাবে ধর্ম পালন করলে বেহেশত এবং অবহেলা করলে জাহান্নামের বিষয়টি ধর্মীয় বিধানের অংশ।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ থেকে কোনো নোটিশ জারি করে কাউকে জোর করে ধর্ম পালনে বাধ্য করা যায় না।

তবে মুজিবুর রহমানের বক্তব্যে প্রকাশিত অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান স্পিকার। সবাই আল্লাহর বিধান মেনে চলবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নামাজ নিয়ে বক্তব্য থামিয়ে দিলেন স্পিকার

এরপর নামাজ নিয়ে বক্তব্য দিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান ময়মনসিংহ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফখরুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, শুধু নির্দিষ্ট জায়গায় নয়, মসজিদের বাইরেও অনেকে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন।

এ পর্যায়ে তার বক্তব্য থামিয়ে দেন স্পিকার। বিষয়টি নতুন কোনো বিতর্কে রূপ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রুলিং দেন তিনি।