শনিবার

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১ আশ্বিন, ১৪৩৩

নুসরাত হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩২

শেয়ার

নুসরাত হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
ছবি সংগৃহীত

ফেনীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছেন বাকি ১০ আসামি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২৪ আগস্ট বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল দুই আসামি

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের ও উম্মে সুলতানা ওরফে পপি।

খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আবদুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আবদুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ও মাদরাসার সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন, আবছার উদ্দিন এবং তৎকালীন কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর।

নিম্ন আদালতের রায় নিয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদের দেওয়া সাজা নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, হাইকোর্ট বলেছেন, একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া অনেকটা মাইন্ডলেস সেন্টেন্স।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, কার কীভাবে দণ্ড দেওয়া উচিত এবং মামলার ঘটনায় কার কতটুকু সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা বিবেচনায় নিতে নিম্ন আদালতের বিচারক ব্যর্থ হয়েছেন বলে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছেন।

এ পরিস্থিতিতে বিচারক মামুনুর রশিদকে ফৌজদারি মামলার বিচার ও সাজা প্রদানের দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে সরিয়ে আনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি

বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ মামলার নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

এসব ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর ২৮ জুলাই হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। ২০ আগস্ট শুনানি শেষ হয়। পরে ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।