মঙ্গলবার

৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩ ভাদ্র, ১৪৩৩

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ার তাগিদ ফলকার তুর্কের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১১

শেয়ার

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ার তাগিদ ফলকার তুর্কের
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বাধীন তদারকি কাঠামোর আহ্বান

অধিবেশনে ফলকার তুর্ক বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নজরদারি বজায় রাখতে একটি স্বাধীন ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার জন্য জাতিসংঘ ধারাবাহিকভাবে আহ্বান জানিয়ে আসছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই আহ্বানের পেছনে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ওই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি বিস্তারিত তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে ৪৪টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্তের সুপারিশ

ওএইচসিএইচআরের সুপারিশগুলোর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন ও তদারকির জন্য একটি স্বতন্ত্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

এ ছাড়া গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, নিরাপত্তা খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বেসামরিক তদারকি বাড়ানো এবং জবাবদিহিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে কার্যকর করার তাগিদ

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও কার্যকর করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্ত করার প্রয়োজনীয় আইনি ক্ষমতা কমিশনের থাকা উচিত।

একই সঙ্গে কমিশনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জনবল ও অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘প্যারিস নীতিমালা’ অনুসরণ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।