রবিবার

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২ ভাদ্র, ১৪৩৩

ধানমন্ডিতে দিনে-দুপুরে ডাকাতি, অবসরপ্রাপ্ত তিন সেনাসদস্যসহ গ্রেপ্তার ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২০

আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:২৩

শেয়ার

ধানমন্ডিতে দিনে-দুপুরে ডাকাতি, অবসরপ্রাপ্ত তিন সেনাসদস্যসহ গ্রেপ্তার ৯
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর ধানমন্ডিতে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত তিন সেনাসদস্যসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজন আগে র‍্যাবেও কর্মরত ছিলেন। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা ও চার রাউন্ড গুলিসহ একটি দেশীয় রিভলভার উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।

ডিঙ্গি রেস্টুরেন্টের সামনে ডাকাতি

পুলিশ জানায়, গত ৩০ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে ধানমন্ডি মডেল থানাধীন ১২ নম্বর সড়কে ডিঙ্গি রেস্টুরেন্টের সামনে খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ডাকাতি করে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল।

টাকা নিয়ে পালানোর সময় ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তানভীর আহমেদ জুয়েল ও মো. মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি দেশীয় রিভলভার উদ্ধার করা হয়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পটুয়াখালী, কুয়াকাটা বাসস্ট্যান্ড, মোহাম্মদপুর, বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন তানভীর আবেদীন (৪১), মো. মজিবুর রহমান (৬০), মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির (৬০), মো. সোলায়মান মৃধা (৫৫), মোহাম্মদ কবির হোসেন (৫০), আবুল কালাম আজাদ (৫০), মো. জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন (৪০), সজল চৌধুরী (৩১) ও সায়মুন চৌধুরী (৩৩)।

স্বর্ণ কেনার কথা বলে ডেকে নেওয়া হয়

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. ফারুক হোসেন জানান, ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম স্বর্ণ কেনার জন্য টাকা নিয়ে চক্রটির সদস্যদের সঙ্গে ধানমন্ডির একটি স্থানে দেখা করতে যান। স্বর্ণের লেনদেনের সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে রিকশাযোগে ডিঙ্গি রেস্টুরেন্টের সামনে নিয়ে আসা হয়।

ওই এলাকায় লেলিনের নেতৃত্বে চার থেকে পাঁচজনের একটি দল আগে থেকেই অবস্থান করছিল। তাদের সংকেত অনুযায়ী অন্য সদস্যরা রিকশাটির গতিরোধ করেন। পরে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে টাকা নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, চক্রটির কয়েকজন স্বর্ণ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত। তারা স্বর্ণ কিনতে আগ্রহী ক্রেতা সংগ্রহ করে তাদের কাছে স্বর্ণ থাকার কথা জানিয়ে টাকা নিয়ে আসতে বলে। এরপর স্বর্ণ ও টাকার বিনিময়ের জন্য অন্য জায়গায় যাওয়ার পথে পরিকল্পনা করে ডাকাতি করা হয়।

উদ্ধার হয়েছে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা

গ্রেপ্তার মো. জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিনের কাছ থেকে লুট হওয়া ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫০ টাকা এবং সজল চৌধুরীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।

তিনজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। মো. মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। মোহাম্মদ জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির অনারারি ক্যাপ্টেন পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। আর মো. সোলায়মান মৃধা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। তাদের কয়েকজন আগে র‍্যাবেও কর্মরত ছিলেন বলে জানান মো. ফারুক হোসেন।

কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তানভীর আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারটি মামলা রয়েছে। সজল চৌধুরীর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও ছিনতাই সংক্রান্ত ছয়টি মামলা রয়েছে। জাকারিয়া হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দুটি মামলা এবং আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।

এ ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানায় একটি ডাকাতি মামলা ও একটি অস্ত্র মামলা করা হয়েছে। পলাতক ও অজ্ঞাতনামা ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।