শনিবার

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১ ভাদ্র, ১৪৩৩

১১ দলের লংমার্চ আ. লীগকে প্রতিহতের কৌশল: ইলিয়াস হোসাইন

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:২২

শেয়ার

১১ দলের লংমার্চ আ. লীগকে প্রতিহতের কৌশল: ইলিয়াস হোসাইন
ছবি বাংলা এডিশন

হাসিনা কি বেঁচে আছেন? জোরালো হচ্ছে প্রশ্ন। কখনো দেশে ফেরার ঘোষণা, কখনো রাজনৈতিক ফাঁকা বুলি, আবার কখনো নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি। পলাতক শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরছেন—এমন হাঁকডাক শোনা গেছে নানা সময়ে।

অথচ দেশে ফেরা নিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার এই ঢাকঢোল পেটানোকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে দেশের সাধারণ মানুষের অনেকে রাজনৈতিক ফাঁকা বুলি ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি হিসেবেই দেখছে।

দেশে ফেরার ঘোষণা ও সমালোচনা

সম্প্রতি এ বিষয়ে জনতার দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ সাকির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসে, যেখানে শেখ হাসিনা ২০৫০ সালেও দেশে ফিরতে পারবেন না বলে তাকে দাবি করতে দেখা যায়। শুধু তাই নয়, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে জুলাই গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার তুলনা করেন তিনি।

তাছাড়া, এক সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা ফেরার প্রেক্ষাপট সামনে এলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমানকেও একটি ভিডিওতে বিষয়টিকে বিদ্রূপ করে উড়িয়ে দিতে দেখা যায়। তার মতে, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাবেন না বলেও, যেমন পালিয়েছেন, ঠিক তেমনই আসার কথা বললেও তিনি মূলত আসবেন না।

এছাড়াও বিএনপির নেতাকর্মীদেরও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিকে নিয়ে হাস্যরস করতে দেখা গেছে বিভিন্ন সময়ে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের একাংশকে বলতে শোনা যায়, স্বৈরাচার একবার পালিয়ে গেলে তার ফেরার আর কোনো পথ খোলা থাকে না।

জুলাই অভ্যুত্থান ও পলায়ন

২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে লেডি ডন খ্যাত শেখ হাসিনার নির্দেশেই আওয়ামী লীগের পোষা বাহিনী খ্যাত পুলিশলীগ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একযোগে হামলা চালায় ছাত্র-জনতার ওপর এবং হাজার হাজার ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত করে তাদের হাত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ওই বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রোষানলে পড়ে ভারতে পালিয়ে যায় ফ্যাসিস্ট সম্রাজ্ঞী শেখ হাসিনা।

পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময় দেশে ফেরার ঘোষণা দিতে দেখা যায় শেখ হাসিনাকে। কিন্তু সর্বশেষ ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, শেখ হাসিনা দেশে থাকা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নানা ফাঁকা আওয়াজ ছুড়লেও গত ৫ আগস্ট ভারতের দিল্লিতে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দেশে ফেরার বিষয়ে কোনো মন্তব্যই করতে দেখা যায়নি তাকে। এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলেও কোনো উত্তর তার কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।

দিল্লির সংবাদ সম্মেলন ও অডিও বক্তব্য

এছাড়াও, ৫ আগস্টের সেই দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে দুই বছর পর লাইভে আসার ঘোষনা দেন শেখ হাসিনা—তাকে দেখার আগ্রহ নিয়ে স্ক্রিনের সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন দর্শক। কিন্তু সারপ্রাইজের বদলে মিলল শুধু অডিওর ফাঁকা বুলি। আর তাতেই যেন ভিউপতন, হাসিনার অডিও বক্তব্যে দর্শকদের শুরু হয় লাইভ ছাড়ার হিড়িক। মাত্র ১০ মিনিটেই লাইভ ছেড়ে গেলেন প্রায় ৪৪ হাজার দর্শক, ভিউ নেমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৬২ হাজারে।

লাইভে সরাসরি বক্তব্য দেয়ার ঘোষণা দিলেও আসলে দেখা যায় তার ভিন্ন চিত্র। অডিও বার্তাতেই নেতাকর্মীদের দেয়া বুকভরা সান্ত্বনা। যা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সর্বমহলে তৈরি হয় হাস্যরস।

ঢাকঢোল বাজিয়ে লাইভে সরাসরি বক্তব্য দেয়ার কথা বলে শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদকে একটি ভিডিওতে ব্যঙ্গ করে বলতে শোনা যায়—দেখা না দিলে বন্ধু কথা কইয়ো না।

এছাড়াও সমালোচনা রয়েছে, শেখ হাসিনা এখন আর জীবিত নেই। অনেকেই মনে করছে, শেখ হাসিনার লাইভে সরাসরি বক্তব্য দেয়ার ঘোষণা দিয়েও অডিও বক্তব্য প্রদান—এ কথারই প্রমাণ করে যে শেখ হাসিনার বক্তব্য এআই জেনারেটেড। সমালোচনাকারীদের মতে, মূলত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উসকে দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্যই এই কৌশল।

১১ দলীয় লংমার্চ ও ইলিয়াস হোসাইনের পর্যবেক্ষণ

এদিকে, ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় জোটের ৬ দফা দাবির প্রেক্ষিতে শুরু হওয়া লং মার্চকে ঘিরে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধ দেখা দিচ্ছে বলে আওয়ামী লীগ মনে মনে আশার আলো দেখছে বলে মনে করছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইলিয়াস হোসাইন। শনিবার ইলিয়াস হোসাইনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া একটি স্ট্যাটাসে উঠে আসে বিষয়টি।

এছাড়াও এটিকে মারাত্মক কোনো সংঘাত বা বড় ধরনের সহিংসতার পর্যায় হিসেবে দেখার মতো কিছু হয়নি বলেও ইঙ্গিত রয়েছে তার পোস্টে। তবে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের দেশে ফেরার চেষ্টা করলে তাকে প্রতিহত করার ঘোষণা হিসেবে ঢাকা টু চট্টগ্রাম লং মার্চ কর্মসূচি তারই প্রস্তুতির অংশ কি না—সেই প্রশ্নও তার পোস্ট থেকে উঠে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা আদৌ বেঁচে আছেন কি না তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা সংশয়। তাদের মতে, শেখ হাসিনা বেঁচে থাকলে অবশ্যই একবার হলেও ক্যামেরার সামনে আসতেন। কিন্তু, সমালোচনা রয়েছে বারবার ঘোষণা দিয়েও সামনে না আসাই প্রমাণ করছে—তিনি আর বেঁচে নেই। অপরদিকে বিশ্লেষকরা বলছে, ১১ দলীয় জোটের মার্চ টু চট্টগ্রাম কোনো সহিংসতা বা বিরোধের জন্য নয়, বরং নানা সংকট সমাধানেরই একটি অংশ।