মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবন, কর্ম, আদর্শ এবং তাঁর সময়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে রাজধানীর মিরপুরে আয়োজন করা হয়েছে এক ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, গবেষণামনস্কতা ও ইতিহাস চর্চাকে উৎসাহিত করতে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে তৈরি বিভিন্ন মডেল ও প্রতিকৃতির মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নানা অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে।
যে ইতিহাস আমরা শুধু বইয়ের পাতায় পড়েছি কিংবা হৃদয়ে ধারণ করেছি, সেই ইতিহাস আজ যেন জীবন্ত ভেসে উঠলো এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুরের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিপুণ হাতে।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সময়কার ব্যবহৃত জিনিসপত্র কিংবা কাবার সেই প্রাচীন রূপ, ঠিক এমনই এক অলৌকিক অনুভূতি তৈরি করেছে এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুরের এই খুদে শিক্ষার্থীরা!
প্রদর্শনীতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যবহৃত সামগ্রীর প্রতিরূপ হিসেবে বিভিন্ন মডেল স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জুতা, লাঠি, পাগড়ি এবং সে সময়ের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রতিকৃতি। এসব নিদর্শনের মাধ্যমে নবীজির সময়কার জীবনধারা ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
শুধু মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনকাল নয়, প্রদর্শনীতে ইসলামের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময় ও ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। হিজরতের আগের আরব সমাজ, তৎকালীন মানুষের জীবনযাপন, নবুয়তের পর ইসলামের বিস্তার এবং হিজরতের পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট শিক্ষার্থীদের তৈরি মডেলে ফুটে উঠেছে।
বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে পবিত্র মক্কার ঐতিহাসিক পরিবেশ। কাবা শরিফের বিভিন্ন সময়ের স্থাপত্য ও পরিবর্তনের ধারণা দিতে শিক্ষার্থীরা তৈরি করেছে একাধিক মডেল। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ইসলামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর অতীত ও বর্তমান সম্পর্কে একটি দৃশ্যমান ধারণা পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
প্রদর্শনীর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এখানে ইতিহাসকে শুধু মুখস্থ করার বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং শিক্ষার্থীদের নিজেদের হাতে বিভিন্ন মডেল তৈরির মাধ্যমে ইতিহাসকে জানার, বোঝার এবং উপস্থাপনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। ফলে পাঠ্যবইয়ে পড়া বিষয়গুলো বাস্তবধর্মী উপস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
প্রদর্শনী দেখতে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও দেখা গেছে উচ্ছ্বাস। অভিভাবকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিশুদের ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সৃজনশীল চিন্তা ও অনুসন্ধানী মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। বিশেষ করে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর আগ্রহ তৈরি করতে পারে।
শিক্ষকদের প্রত্যাশা, শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি বাস্তবধর্মী ও সৃজনশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইতিহাসের বিভিন্ন বিষয় আরও সহজে আয়ত্ত করতে পারবে। একই সঙ্গে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবন, কর্ম ও আদর্শ সম্পর্কে তাদের জানার পরিধিও বিস্তৃত হবে।
আয়োজকদের এই উদ্যোগে ইতিহাস চর্চার সঙ্গে সৃজনশীলতার একটি সুন্দর সমন্বয় ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রতিটি মডেল যেন বইয়ের পাতায় থাকা একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়কে চোখের সামনে তুলে ধরেছে। এমন আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতিহাসকে শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে হাতে-কলমে শেখার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তাদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশেও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
আরও পড়ুন:







