শনিবার

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১ ভাদ্র, ১৪৩৩

ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন কারাবন্দিরা

বাসস

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩৩

আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৪১

শেয়ার

ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন কারাবন্দিরা
ছবি সংগৃহীত

কারাগারের বন্দিজীবনে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ বাড়াতে চালু হচ্ছে ভিডিও কল সুবিধা। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ সুবিধা চালু হয়েছে। শিগগিরই সারা দেশে এটি সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে।

ঢাকা কারা অধিদপ্তরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, শিগগিরই সারা দেশের কারাবন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন।

সংশোধন ও পুনর্বাসনে নানা উদ্যোগ

কারাগারে বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও অন্যান্য মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদনশীল কাজে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বন্দিদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য দক্ষ করে তোলার কার্যক্রমও চলছে।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উৎপাদিত সাবান বন্দি ও স্টাফদের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পানির উদ্যোগ

বন্দিদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্যাথলজি ল্যাব চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সের সুপারিশ পাওয়া গেছে। তাদের পদায়নের মাধ্যমে কারাগারের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়বে বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে পানি সরবরাহ কার্যক্রমও চলছে।

কারাগারে উৎপাদন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ বাসসকে জানান, ঢাকা জেলে রুটি তৈরির কার্যক্রম আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করতে চায়না থেকে আমদানি করা রুটি মেকার স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বৃহৎ সংখ্যক বন্দির জন্য কম সময়ে একই মানের রুটি স্বাস্থ্যসম্মত ও দক্ষতার সঙ্গে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমছে।

বিশেষ দিবসে বন্দিদের খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রয়েছে। খাবারের মান উন্নত করতে বিভিন্ন কারাগারে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বন্দিদের বিভিন্ন পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল তৈরি ও বেকারির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। খেলাধুলার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ

কারা অধিদপ্তর জানায়, আধুনিক কারা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রশিক্ষিত জনবল অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের কারারক্ষী, প্রধান কারারক্ষী, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর, ডেপুটি জেলার, জেলার ও জেল সুপারদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অবসর-পরবর্তী কল্যাণের প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে। এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিরাপত্তা রক্ষা, বন্দি পালানো প্রতিরোধ, অনিয়ম প্রতিরোধ, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সেবা এবং দায়িত্ব পালনে অসাধারণ অবদান রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ যথাযথভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। যোগ্য সদস্যদের পদক, প্রশংসাপত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থাও আরও কার্যকর করার উদ্যোগ রয়েছে।

মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও সবুজায়ন

কারাগারে মাদক প্রবেশ ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে ড্রাগ পরীক্ষার মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারাগারকে স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব করতে ব্যাপক সবুজায়ন কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট-১, কিশোরগঞ্জ-১ ও খুলনা নতুন কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তর জানায়, যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ, ভালো কাজের স্বীকৃতি, পরিবেশবান্ধব কারা ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক ও পেশাদার সংশোধনমূলক পরিষেবা গড়ে তোলার কাজ চলছে।

কারা কর্তৃপক্ষের আশা, এসব উদ্যোগের ফলে কারাগার সম্পর্কে মানুষের প্রচলিত ধারণায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কারাগার হবে নিরাপদ ও মানবিক, কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হবেন দক্ষ, সৎ ও মর্যাদাবান এবং বন্দিরা সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ পাবেন। পুরো প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যেও কাজ চলছে।