বৃহস্পতিবার

৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

হাসিনাসহ ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৪২

শেয়ার

হাসিনাসহ ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণের জন্য দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

এর আগে সকালে মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামির মধ্যে ১০ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অসুস্থতার কারণে সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে হাজির করা হয়নি।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়, মামলার পলাতক ৩০ আসামিকে তাদের ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণের জন্য বাংলা ও ইংরেজি ভাষার দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে হাজির ১০ আসামি

ট্রাইব্যুনালে হাজির করা আসামিরা হলেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির এবং ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু।

পলাতক ৩০ আসামি

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন এবং সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম।

এ ছাড়া পলাতক আসামিদের তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী।

৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে

এর আগে গত ১৬ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ১১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা ছিল। তবে দুজনের নামে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু না হওয়া এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিকৃত ব্যক্তিদের নন এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) না আসায় প্রসিকিউশন সময় চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজকের দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি এবং গ্রেপ্তারদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলায় দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা রয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনা আনা হয়েছে।