বুধবার

২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮ ভাদ্র, ১৪৩৩

কেন রূপালি পর্দা ছাড়ার আকুতি পপির?

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩৪

শেয়ার

কেন রূপালি পর্দা ছাড়ার আকুতি পপির?
ছবি সংগৃহীত

অশ্রুসজল ভিডিও বার্তায় রূপালি পর্দাকে বিদায়ের ইঙ্গিত দিলেন চিত্রনায়িকা পপি। কেন রূপালি পর্দা ছাড়ার আকুতি পপির? পপিকে নিয়ে কটাক্ষ; পাশে দাঁড়িয়েছেন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন। পপিকে নিয়ে বিতর্ক।

পপির রাজকীয় উত্থান ও বিদায়ের ইঙ্গিত

১৯৯৭ সাল। মনতাজুর রহমান আকবরের ‘কুলি’ চলচ্চিত্রে প্রায় সাত কোটি টাকার রেকর্ড ব্যবসায়িক সাফল্য দিয়ে যাঁর রাজকীয় উত্থান, তিনি ঢালিউড কুইনখ্যাত সাদিকা পারভীন পপি। তিন দশকের খ্যাতি, তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আর অগণিত ভক্তের ভালোবাসা অর্জনের পর, সিনেমার চিত্রনাট্যের মতোই বদলে যায় তাঁর বাস্তব জীবন। আলোঝলমলে জগত ছেড়ে আত্মগোপন, সংসার, আর অবশেষে অশ্রুসজল ভিডিও বার্তায় রূপালি পর্দাকে বিদায় জানানোর ঘোষণা।

পুরোনো বক্তব্য নিয়ে তোলপাড়

তবে, আড়াল ভেঙে সম্প্রতি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া পপির একটি পুরোনো বক্তব্য নতুন করে তোলপাড় শুরু করেছে। ভিডিওতে তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, পরিবারের প্রয়োজনে কাজ করতে গিয়ে যে ‘পাপ’ কামিয়েছেন, সেই পাপ ধুয়ে-মুছে সুন্দরভাবে মরতে চান, আর বাকি কটা দিন হেদায়েতের জন্য আল্লাহর নাম জপে কাটাতে চান। পপির এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই বিনোদন পাড়ায় শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ।

শাহরিয়ার নাজিম জয়ের প্রশ্ন

পপির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তোলেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। মৌসুমী ও পপির উদাহরণ টেনে জয় প্রশ্ন ছুড়ে দেন, তারকারা নিজেদের ক্যারিয়ারের ষোলআনা উসুলে জীবন গুছিয়ে নেয়ার পর অভিনয়কে ‘পাপ’ আখ্যা দিলে, তাঁদের দেখে না বুঝে গুনাহ করা ভক্তদের দায়ভার কে নেবে? জয়ের এই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

বাপ্পারাজের কড়া মন্তব্য

জয়ের সেই পোস্টে সরাসরি কড়া ভাষায় আঘাত হানেন জ্যেষ্ঠ অভিনেতা বাপ্পারাজ। পপির বক্তব্যকে নিয়ে তিনি মন্তব্য করে ‘উপার্জনের সময় যা পাপ মনে হয়নি, বেকার হলেই নাকি তা পাপ মনে হয়’।

মনস্তাত্ত্বিক চাপের অভিযোগ

তবে এ ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে, পপির বক্তব্যটি ভাইরাল হওয়ার পর চলচ্চিত্র পাড়ার প্রভাবশালী বলয় থেকে তাঁকে ফোন করে মনস্তাত্ত্বিক চাপ দেয়া হয়। এফডিসির সেই অদৃশ্য চাপের মুখেই পরবর্তীতে পপি নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে বলতে বাধ্য হন, চলচ্চিত্র তাঁর দ্বিতীয় পরিবার এবং তিনি অভিনয়কে সরাসরি পাপ বলেননি।

সাদিয়া জাহান প্রভা ও আলেমদের মত

অন্যদিকে, বিতর্কিত অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভার স্পষ্ট কথা, ‘শিল্প কোনো পাপ নয়, এটি পরিচয় ও সংস্কৃতি।‘ তবে প্রভার এই যুক্তির বিপরীতে ধর্মীয় স্কলাররা দিচ্ছে স্পষ্ট শরিয়তি ব্যাখ্যা। আলেমরা জানায়, শরিয়ত ও নৈতিক সীমানার বাইরের কোনো কাজকে কেবল ‘শিল্পের’ দোহাই দিয়ে হালাল করার সুযোগ নেই। তবে অতীতে যা-ই ঘটুক না কেন, কোনো বান্দা অনুতপ্ত হয়ে খাঁটি মনে তওবা করে দ্বীনের পথে ফিরতে চাইলে হাদিস অনুযায়ী আল্লাহর ক্ষমার দুয়ার সর্বদাই খোলা। বলেন মুফতী সোহাইল আহমাদ সাঈদ, খতীব, দক্ষিণ করীমপুর বায়তুল মামুর জামে মসজিদ।

ওমর সানীর মন্তব্য

অন্যদিকে, পপির পাশে দাঁড়িয়ে ভিন্ন সুর তুলেছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। মাদক বা অবৈধ উপার্জনের চেয়ে চলচ্চিত্রের রুটিরুজিকে ভালো উল্লেখ করে সানীর মন্তব্য রহস্যে ঘেরা।

ইলিয়াস হোসাইনের সমর্থন

এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইলিয়াস হোসাইন। বাপ্পারাজের অতীত সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লেখেন, কেউ ভালো হতে চাইলে তাকে খোঁচা না দিয়ে স্বাগত জানানো উচিৎ। সাধারণ নেটিজেনদের বড় অংশও বাপ্পারাজের কড়া মন্তব্যকে নেতিবাচকভাবে দেখে পপির দ্বীনমুখী হওয়ার ইচ্ছাকে সমর্থন জানিয়েছে।

ঢালিউডের চিরন্তন টানাপোড়েন

ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে এসে শাবানা, ববিতা, চম্পা কিংবা সুচন্দাদের রূপালি পর্দা ছেড়ে ইবাদতের পথে হাঁটার ইতিহাস ঢালিউডে নতুন নয়। শাকিব খানের মতো তারকাদের কণ্ঠেও বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে দ্বীনের কথা। জীবন গুছিয়ে নেয়ার পর রূপালি মোহের অবসান আর আত্মশুদ্ধির ব্যাকুলতা, শিল্প ও ধর্মের এই চিরন্তন টানাপোড়েন বিনোদন পাড়ায় রেখে যাচ্ছে এক অমীমাংসিত প্রশ্ন।