বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগেই জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি)। এর মাধ্যমে দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপের দিকে আরও এগিয়ে গেল।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জিই ভার্নোভার মধ্যে এ চুক্তি হয়েছে।
চুক্তির আওতায় যেসব তথ্য যুক্ত হবে
চুক্তি অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১ ও ইউনিট-২-এর আটটি সঞ্চালন লাইন এবং ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি জিআইএস সাবস্টেশনের নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল ও তথ্য এনএলডিসির এসসিএডিএ/ইএমএস ব্যবস্থায় ইন্টিগ্রেট করা হবে।
এই কারিগরি ইন্টিগ্রেশনের ফলে রূপপুরের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় তথ্য ও সংকেত জাতীয় গ্রিড পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে রূপপুরের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় তথ্য পর্যবেক্ষণ ও ব্যবহারের সুযোগও তৈরি হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে চুক্তিপত্রে সই করেন প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন। জিই ভার্নোভার পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি দেবেশ ঝা।
কমিশনিং প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক
প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন জানান, রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিশ্বস্ততার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য প্রেরণে চুক্তিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি মাইলফলক। কেন্দ্রটির কমিশনিং প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মো. খালেকুজ্জামান জানান, এনএলডিসির স্কাডা সিস্টেমের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ফলে কেন্দ্রের সঙ্গে গ্রিডের রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান, সমন্বিত পরিচালন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রূপপুর
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বর্তমানে কেন্দ্রটি বি-২ কমিশনিং লাইসেন্স ও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে।
অনুমতি পাওয়া গেলে শুরু হবে চেইন রিঅ্যাকশন প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ধাপে ধাপে কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদন পর্যায়ে পৌঁছাবে।
জাতীয় গ্রিডের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হলো রূপপুর
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) প্রধান প্রকৌশলী ও স্কিম ডিরেক্টর মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, বাংলাদেশের সব অপারেটিং বিদ্যুৎকেন্দ্রই জিই ভার্নোভার স্কাডা/ইএমএস সিস্টেমের মাধ্যমে জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে।
তিনি জানান, এই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুরো দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিস্থিতি ও বাস্তব অবস্থা এক জায়গা থেকেই নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগেই চুক্তিটির মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় গ্রিড ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হলো।
বর্তমানে ইউনিট-১-এর ফুয়েল-লোডিং পরবর্তী বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্কাডা সিস্টেমের কাজ সম্পন্ন করা জরুরি ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন:







