যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো এক বিশেষ চিঠিতে ট্রাম্প আশ্বস্ত করেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান এবং শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বাড়াতে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে ৭০ থেকে ৮০টি বিমান কেনার নীতিগত পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আরো শক্তিশালী হচ্ছে বাংলাদেশ
শুধু বেসামরিক বিমান নয়, আকাশপথের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে মজবুত করতে বেইজিংয়ের সাথে মেগা চুক্তির দিকে এগোচ্ছে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ধারাবাহিকতায় এই প্রতিরক্ষা জোরদারের উদ্যোগ নেয়া হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ২৩০ কোটি ডলার ব্যয়ে চীন থেকে ২০টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ। অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে আলোচনায় আসা এই শক্তিশালী বিমান কেনার প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত ধাপে, যার অর্থ পরিশোধ করা হবে আগামী এক দশকে।
একতরফা নির্ভরতা কাটিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা
একতরফা নির্ভরতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রতিরক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বা ইসলামীয় ন্যাটোতে যুক্ত হওয়ার বিষয়েও কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। খুব শিগগিরই রিয়াদ সফরে গিয়ে সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে এই আলোচনা চূড়ান্ত করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এদিকে, দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিতর্কিত সভা আয়োজনের অনুমতি না দেয়াকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশ যেমন কোনো সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দেবে না, তেমনই পলাতক কোনো সন্ত্রাসী যেন ভারতের মাটিতে আশ্রয় না পায় সেটিরও আশাবাদ রাখে ঢাকা। উপযুক্ত সময় ও পারস্পরিক সম্মানের ওপর ভিত্তি করেই সরকারপ্রধানের ভারত সফর নির্ধারিত হবে।
দিশেহারা হাসিনা ও দিল্লি
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চিঠি ও সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন সাংবাদিক ড. কনক সারওয়ার। তাঁর পর্যবেক্ষণে, চিঠিতে ট্রাম্পের বাংলাদেশের মানুষ অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে, উক্তিটি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতি একধরনের পরোক্ষ স্বীকৃতি।
এছাড়া থার্ড পার্টি বা কমিশন এজেন্টদের বাদ দিয়ে সরাসরি বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তকে তিনি অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, ট্রাম্পের এই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যে স্পষ্ট আস্থার আভাস পাওয়া গেছে, তাতে পলাতক শেখ হাসিনা ও দিল্লির নীতি নির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রনীতি
সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা কাঠামোতে কৌশলগত রূপান্তর লক্ষ করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজস্ব ভৌগোলিক ও কূটনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া এবং সামরিক বাহিনীকে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করার মাধ্যমে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি শক্তিশালী করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা এই গতিশীল পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করছে।
প্রভুত্ব কিংবা একপেশে প্রভাব নয়, ওয়াশিংটন, বেইজিং থেকে শুরু করে রিয়াদ পর্যন্ত বাংলাদেশের নতুন এই ভারসাম্যপূর্ণ সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে: জাতীয় স্বার্থ ও নিজস্ব সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ এখন সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল।
আরও পড়ুন:







