মঙ্গলবার

১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩

মোজাফফরের ফোনে ৪৫ বছর পর জিয়া হত্যার নতুন তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:১৯

শেয়ার

মোজাফফরের ফোনে ৪৫ বছর পর জিয়া হত্যার নতুন তথ্য
ছবি সংগৃহীত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসসহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে তিনি দাবি করেছেন, এবার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অনেক রহস্যের সুরাহা হতে পারে। তদন্তে গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনের ফোন ও ডিজিটাল তথ্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সামনে এসেছে।

গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি প্রায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন।

ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান হত্যার সময় তার কাছেই উপস্থিত ছিলেন মোজাফফর। হত্যাকাণ্ডের পর ওই কক্ষে নথিপত্র তল্লাশি এবং মরদেহ সরানোর কাজেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন বলে এসব বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। মোজাফফর গ্রেপ্তার হওয়ার পর হত্যাকাণ্ড ঘিরে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা জানতে অনুসন্ধানের পাশাপাশি ডিজিটাল এভিডেন্সও খোঁজা হচ্ছে। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যু নিয়ে এখনো অনেক রহস্য রয়েছে। এসব রহস্য উন্মোচনে মোজাফফর গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। তার সঙ্গে দেশের ভেতর ও বাইরের বেশ কিছু ব্যক্তির যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তারা রাষ্ট্রীয় কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, এতদিন পর কেন মোজাফফরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, তিনি কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, কেন প্রবেশ করেছেন, কার পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন এবং কার ছত্রচ্ছায়ায় ব্যাংকে বিভিন্ন লেনদেন করেছেন, সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

তদন্তে জিয়াউর রহমান হত্যার পর সেনানিবাসে ফিরে আসা কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং সে সময়কার পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পর সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হিসেবে মেজর জেনারেল মঞ্জুরের নাম সামনে আসার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পর মঞ্জুরকে পুলিশ হেফাজত থেকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে দিয়েছিল, সেই প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

তানভীর হাসান জোহা বলেন, তৎকালীন প্রশাসক কেন মঞ্জুরকে সেনা হেফাজতে নিয়েছিলেন, কোন আইনের বলে তাকে নেওয়া হয়েছিল এবং সিভিল এলাকায় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন সেনা কর্মকর্তাকে কারা নিয়ে গিয়েছিল, তা তদন্ত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে কীভাবে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং তার ময়নাতদন্ত কে করেছিলেন, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মঞ্জুরকে গুলি করার তথ্য থাকলেও কমিশন তা নির্ণয় করতে পারেনি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কে গুলি করেছিলেন এবং মঞ্জুর কীভাবে নিহত হয়েছিলেন, সে বিষয় এখনো অমীমাংসিত।

বিশেষ প্রসিকিউটর বলেন, সে সময়ের জীবিত সেনা কর্মকর্তারা, তাদের তাৎক্ষণিক জুনিয়র কর্মকর্তা, গোয়েন্দা ও অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিবেদন সমন্বয় করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের করার চেষ্টা করা হবে। ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা কী অর্জন করতে চেয়েছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।

তদন্তে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে প্রেসিডেন্টের পক্ষে থাকা একটি গোপন নথির সন্ধানের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। ওই গোপন নথিটি কী ছিল এবং জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর সেটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কেন এত আগ্রহ ছিল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে লেফটেন্যান্ট মোসলেহ উদ্দিন, মেজর ফজলুল হক, ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মো. মুনির এবং ক্যাপ্টেন মো. ইলিয়াসের সম্পৃক্ততাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।

সূত্র: চ্যানেল টুয়েন্টিফোর