দীর্ঘ চড়াই-উতরাই, দেড় দশকের বেশি সময়ের রাজপথের সংগ্রাম এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)। ১৯৭৮ সালের এই দিনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দলটি বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে।
ক্ষমতায় ফেরা যেমন দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ও স্বস্তি এনেছে, তেমনি রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে বিএনপিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে বিশাল জনপ্রত্যাশা ও কঠিন বাস্তবতার পরীক্ষা। এমন এক সময়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এলো, যখন একদিকে রয়েছে রাজনৈতিক বিজয়ের স্বস্তি ও জনপ্রত্যাশার আলো, অন্যদিকে অর্থনীতি পুনর্গঠন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার কঠিন চ্যালেঞ্জ।
৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
তবে সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এবারই প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে বিএনপি। নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা অন্য যেকোনো জাতীয় দিবসে নেত্রীকে পাশে পাওয়ার প্রতীক্ষায় থাকতেন সবাই। তাকে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহীদ জিয়ার মাজারে ফাতেহা পাঠ এবং নানা কর্মসূচি পালন ছিল তাদের সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু। খালেদা জিয়া ছিলেন তাদের প্রেরণা ও উদ্দীপনার উৎস। এবার তার অনুপস্থিতি নেতাকর্মীদের জন্য বেদনার।
ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে বিএনপি
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ৪৯ বছরে পা দিয়ে বিএনপি এখন একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণের মুখোমুখি। রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে দলটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ারে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের পর পাওয়া এ দায়িত্ব দলটির জন্য মূলধারার রাজনীতির রূপরেখা পুনর্নির্মাণের বড় সুযোগ এনে দিয়েছে।
রাজপথের বিরোধী দলের পরিচয় থেকে বেরিয়ে এখন একটি দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র পরিচালনাকারী শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রমাণের সময় পার করছে বিএনপি। বিশ্লেষকদের মতে, আশার এই আলো ধরে রাখা এবং নিরাশার অন্ধকার দূর করার ওপরই নির্ভর করছে বিএনপি ও দেশের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার আগে তিনি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল বা জাগদল এবং জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠন করেন।
পরে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁয় জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জাগদল, মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নেতৃত্বাধীন ন্যাপ, আবদুল হালিম ও আকবর হোসেনের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস পার্টি, আব্দুল মতিনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি এবং শাহ আজিজুর রহমানের মুসলিম লীগ বিলীন হয়।
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরেন। তিনি দীর্ঘ ৪০ বছরের বেশি সময় বিএনপির জাতীয়তাবাদের পতাকা সমুন্নত রাখেন। বর্তমানে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের হাল ধরেন তিনি।
দীর্ঘ সংগ্রামের পর নতুন বাস্তবতা
দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় পর অনুকূল পরিবেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে বিএনপি। এবার বিগত ফ্যাসিবাদ আমলের মতো হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় নেই। দলটির দীর্ঘ পথচলা যেমন ইতিহাসের গর্ব ও বড় অর্জন, তেমনি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখাও চ্যালেঞ্জ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির সামনে তৈরি হয়েছে পাহাড়সম জনপ্রত্যাশা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে এককভাবে সরকার গঠন করেছে দলটি।
তবে সরকারের দায়িত্বভার নেওয়ার পর বিএনপি এখন রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডেই মনোযোগী। ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রমে কিছুটা মন্থর গতি দেখা যাচ্ছে। সারা দেশে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব বিরাজ করলেও প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব কষছেন অনেকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাড়ে চার দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক পথচলায় বিএনপি কখনো ক্ষমতায় থেকেছে, কখনো আন্দোলনে। তবে গত দেড় যুগের বেশি সময় রাজপথেই কেটেছে দলটির নেতাকর্মীদের। তারা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের দাবিতে আন্দোলনে অবিচল ছিলেন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ রাজনীতির বাইরে চলে যাওয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিএনপির সামনে এখন দেশ পুনর্গঠনের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। দল হিসেবে নতুন করে জনগণের সামনে নিজেদের উপস্থাপনেরও রয়েছে অপার সম্ভাবনা।
চ্যালেঞ্জের মুখে ক্ষমতাসীন দল
তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানোত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য ধরে রাখাকে মুখ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মিত্র এবং বর্তমান সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন দলটিকে নতুন বাস্তবতায় ফেলেছে। তরুণ প্রজন্মের আস্থা ধরে রাখা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করাও অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
সেই সঙ্গে নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নও বিএনপি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতেই ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে দলটি।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট-পরবর্তী নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। পরে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।
১৯৮১ সালের ৩০ মে সেনাবাহিনীর বিপথগামী একদল সদস্যের হাতে শহীদ হওয়ার পর বলা হয়েছিল, জিয়াউর রহমানের অবর্তমানে বিএনপি টিকবে না। সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করে বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ়চেতা ও আপসহীন নেতৃত্বে এক দশকের মাথায় ১৯৯১ সালে বিপুল সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যায় বিএনপি।
বর্তমানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি আগের চেয়েও সুসংগঠিত বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা খুবই শক্তিশালী, যা বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আরও দৃঢ় হয়েছে। তবে সরকারে থাকায় বিএনপির প্রত্যেক নেতাকর্মীর দায়িত্ব হবে জনগণের সঙ্গে থাকা এবং সরকারের কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা।
বিএনপি চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু বলেন, বিএনপি জনগণের দল। চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন সুসংগঠিত এবং অনেক শক্তিশালী।
তারেক রহমান দলের ইস্পাতকঠিন ঐক্য ধরে রেখে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মতো আগামী দিনে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীন সার্বভৌমত্ব আরও সুদৃঢ় হবে এবং দেশ একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন বলেন, বিএনপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত জনগণের দল। দলটিকে ভাঙতে নানামুখী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে বিএনপি টিকে আছে।
সুযোগের পাশাপাশি কঠিন পরীক্ষা
বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির সামনে সুযোগের পাশাপাশি রয়েছে বহু চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘকালের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে গতিশীল করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেরও নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের স্পষ্ট জনরায়ে বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশা দুটিই দৃশ্যমান। এটি দলটির সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নে শক্তি জোগাতে পারে।
অন্যদিকে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, রিজার্ভের চাপ এবং কর্মসংস্থানের সংকট রাতারাতি সমাধান করা সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। জনগণের উচ্চাশা পূরণ করতে না পারলে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
দীর্ঘদিন বিরোধী দলে থাকার পর ক্ষমতার প্রভাবে নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে অনিয়ম বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কঠোর শৃঙ্খলা রক্ষা করা নেতৃত্বের জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে কার্যকর ও জনবান্ধব সংস্থায় পরিণত করার কাজটিও সময়সাপেক্ষ এবং এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম বলেন, দীর্ঘকাল ক্ষমতার বাইরে থাকা, আন্দোলনে ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং সাংগঠনিক কিছু দুর্বলতা বিএনপিকে ভিন্ন এক বাস্তবতায় দাঁড় করিয়েছিল।
তবে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি ঐক্যবদ্ধ ছিল, যা বর্তমানে আরও সুদৃঢ়। বিএনপি তরুণদের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসংস্থান পরিকল্পনা, দুর্নীতি দমন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে ইশতেহার দিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে জনপ্রিয়তা আরও সুসংহত হবে বলেও তিনি মনে করেন।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাহাবুল হক বলেন, বিএনপির ৪৮ বছর রাজনৈতিক অস্তিত্বের দীর্ঘ এক অধ্যায়। এই পথচলায় জনগণের ভোটে ফিরে আসা নিঃসন্দেহে বড় প্রাপ্তি। তবে ভোটে জয়ের চেয়ে বড় এখন শাসনের পরীক্ষা।
তিনি বলেন, জনপ্রত্যাশা এখন আকাশছোঁয়া, কিন্তু সামনে রয়েছে মুদ্রাস্ফীতি ও বৈশ্বিক মন্দার কঠিন বাস্তবতা। সংকট ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি বিরোধী শক্তির উপস্থিতি সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপকে কঠোর পর্যালোচনার মুখে ফেলেছে।
তার মতে, এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের চেয়ে আত্মপর্যালোচনা এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের রুটি-রোজগারের প্রশ্নে সরকারকে প্রথম সারিতে থাকতে হবে এবং সুশাসনের মানদণ্ডে নিজেদের যাচাই করাই হবে দলের প্রকৃত চ্যালেঞ্জ।
পাঁচ দিনের কর্মসূচি
শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি। এ উপলক্ষে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা সভা, সারা দেশে বৃক্ষরোপণ এবং মৎস্য অবমুক্তকরণ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে শেরেবাংলা নগরে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি রয়েছে। এর সূচনা হয়েছে দলের প্রতিষ্ঠাতা, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে।
এ ছাড়া দিবসটির শুরুতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানের চেয়ারম্যানের কার্যালয়সহ সারা দেশে জেলা কার্যালয়গুলোতে বিএনপির পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দল ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো পোস্টারও প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন:







