মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রণাঙ্গন থেকে দক্ষিণ এশিয়ার জলসীমা, সর্বত্রই এখন ক্ষমতার নতুন মেরুকরণ। তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত, 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' বা মক্কা প্যাক্ট নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে তীব্র বিশ্লেষণ। এই সামরিক বলয়ে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান কি শুধুই কৌশলগত সুযোগ, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি? অনলাইনে এক আলোচনায় এমন প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
চুক্তির কৌশলগত দিক
মাহবুব ভূঁইয়া, মডারেটর, বিআইডিএসএস ওয়েবিনার।
চুক্তির কৌশলগত দিক তুলে ধরে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা গবেষক, ডক্টর মোহাম্মদ ইমরান হোসাইন আনসারী জানান, এই জোটে অংশগ্রহণ, সামরিক সক্ষমতা বাড়ালেও, আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
ড. মোহাম্মদ ইমরান হোসাইন আনসারী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা গবেষক।
সামরিক জোটে যুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা, সাধারণ কূটনৈতিক চুক্তির মতো নয় উল্লেখ করে, যৌথ প্রতিরক্ষা শর্তের বিষয়ে, বাড়তি সতর্কতার তাগিদ দেন ডক্টর আনসারী।
কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর, কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে সতর্কবার্তা দেন কূটনৈতিক বিশ্লেষক, ডক্টর হারুন উর রশীদ।
কূটনৈতিক বিশ্লেষক
আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুষম ভারসাম্য বজায় রেখেই, বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ দেন এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক।
প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সমরাস্ত্র
আমেরিকার ডিফেন্স ও অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রির বিশেষজ্ঞ, সাবিন আহমেদ আধুনিক সমরাস্ত্র ও বৈশ্বিক প্রযুক্তির, দ্রুত পরিবর্তনের বিষয়, নীতিনির্ধারকদের গভীরভাবে পর্যালোচনার পরামর্শ দেন।
সাবিন আহমেদ, ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশেষজ্ঞ, যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকটিও, কারিগরি বিশ্লেষণে তুলে ধরেন সাবিন আহমেদ।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ
অন্যদিকে, জাতিসংঘের সাবেক ফোর্স কমান্ডার ও এফএসবিডিএস-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত), ফজলে এলাহী আকবর দেশের সার্বিক সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার দিকটি অগ্রাধিকার দেয়ার তাগিদ দেন।
মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, সাবেক ফোর্স কমান্ডার।
জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, এমন কোনো শর্ত মেনে নেয়ার ক্ষেত্রে চরম সতর্কতার পরামর্শ দেন এই সামরিক বিশ্লেষক।
আলোচনার শেষাংশে ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কূটনীতি বজায় রাখার, তাগিদ দেন অংশগ্রহণকারীরা।
মূলত, ইস্তাম্বুলে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিকদের বৈঠকে চুক্তির কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা কাঠামো নির্ধারণের কাজ চলছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সই হওয়া এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে কোনো এক দেশের ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করার বিধান রয়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও মিসরসহ আরও অন্তত ৬ থেকে ৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এই চুক্তিতে যোগ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশেও চলছে জোর আলোচনা।
এমন প্রেক্ষাপটে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই সামরিক জোটকে স্বাগত জানিয়েছেন। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।
বাস্তববাদী কূটনীতিই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। মক্কা চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায়, যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তাতে জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে পথ চলাই হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, বলেই মনে করছে বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন:







