সোমবার

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩

নিখোঁজ হওয়াকে গুম বলে সরকারের ভাবমূর্তী ক্ষুণ্নের ষড়যন্ত্র?

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ২০:০০

শেয়ার

নিখোঁজ হওয়াকে গুম বলে সরকারের ভাবমূর্তী ক্ষুণ্নের ষড়যন্ত্র?
ছবি সংগৃহীত

গুম-শব্দটি উচ্চারিত হলেই যেন কল্পনার পর্দায় ভেসে ওঠে এক অন্ধকার, নিঃশব্দ আর্তনাদের ভয়াল চিত্র।

বাংলাদেশের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের ১৭ বছরের ইতিহাসে এমন রহস্যময় গুমের শিকার হয়েছেন বহু মানুষ। সাবেক সেনা কর্মকর্তা আমান আযমী থেকে শুরু করে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী-নিখোঁজের’ এসব ঘটনা আওয়ামী লীগ আমলের এক কালো অধ্যায় হিসেবে এখনও রয়ে গেছে ইতিহাসের গহীন পাতায়।

তথ্য বলছে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাতেই এসব গুম-খুনের ঘটনা সংঘটিত হতো। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা সরকারের নেতৃত্বে বিরোধী মত, আলেম-ওলামা কিংবা সরকারের সমালোচকদের ঘায়েল করতেই গুমের এসব মাস্টারমাইন্ড পরিকল্পনা সাজানো হতো বলে জানা যায়। আর দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ এবং ধর্মপ্রাণ আলেম-উলামারাই এই গুমের শিকার হতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সময় ও ক্ষমতার পরিবর্তন

কিন্তু সময় বদলেছে। বদলেছে ক্ষমতার কাঠামোও। এখন কোনো মানুষ নিখোঁজ হলেই তাকে কি আগের সেই ‘গুম’-এর সঙ্গে একই কাতারে দাঁড় করানো যায়? নাকি নিখোঁজ হওয়ার প্রতিটি ঘটনার পেছনে থাকতে পারে ভিন্ন বাস্তবতা—অপহরণ, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা অপরাধীচক্রের সংশ্লিষ্টতা?

এমনই এক প্রশ্ন সামনে এসেছে রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর আয়োজনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারের মাধ্যমে। সেখানেই বাগেরহাটে বসবাসরত মিরাজ নামের এক ব্যক্তির পরিবার অভিযোগ করেন, ইউনিফর্ম পরিহিত দুজন ব্যক্তি কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে করে মিরাজকে তুলে নিয়ে যায়।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি

আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে ‘বর্তমান সরকারের সময়ও গুমের অভিযোগ, নতুন বিল নিয়ে ভুক্তভোগীর স্বজনদের ক্ষোভ’—এই শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশ করতে দেখা যায় বাংলাদেশের শীর্ষ গণমাধ্যম প্রথম আলোকে। যেখানে ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে বর্তমান সরকারের ওপর কিছুটা দায় চাপানোর চেষ্টা করছে প্রথম আলো—এমন প্রশ্নও সামনে এসেছে।

কিন্তু বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ দাবি করেন ভিন্ন কিছু। তার মতে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত ছয় মাসে কোনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়াও মিরাজের ঘটনাটিকে বনদস্যুদের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও প্রথম আলোর অভিযোগ

এছাড়াও ফ্যাসিবাদের আমলে যে সরকারের অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদ করেছে, তাকেই গুম করা হতো-এই বিষয়টিকে সামনে এনে ফ্যাসিস্ট সরকারের সেসব দমন-পীড়নের সমালোচনা করতে দেখা যায় বর্তমান সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে।

ইশরাক হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী
আর এসব গুমের বিষয়ে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সরাসরি মদদ জোগাতেন প্রথম আলো-এমন অভিযোগও উঠেছে নানা সময়ে।

বর্তমান গুম কি আগের মতো

সব মিলিয়ে, এখনও বিভিন্নভাবে মানুষ গুম হচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো-তাদের গুম কি ফ্যাসিবাদের আমলের সেই গুমের মতো? যে গুমের অভিযোগ ছিল সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিরোধী মতকে দমন করার জন্য। নাকি বর্তমান সময়ে নিখোঁজ হওয়া প্রতিটি ঘটনার পেছনে রয়েছে ভিন্ন কোনো বাস্তবতা?