সোমবার

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩

মক্কা চুক্তি বাংলাদেশকে নিয়ে কেন চিন্তিত ভারত?

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২২

শেয়ার

মক্কা চুক্তি বাংলাদেশকে নিয়ে কেন চিন্তিত ভারত?
ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের নতজানু নীতি এবং নয়াদিল্লির একতরফা দাদাগিরির যে সমীকরণ তৈরি হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর তা পুরোপুরি বদলে গেছে। নয়াদিল্লির হুকুমদারি কিংবা একচ্ছত্র প্রভাব নয়, বাংলাদেশ এখন থেকে কথা বলবে চোখে চোখ রেখে, সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সমতার ভিত্তিতে। আর এই স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ধাক্কাতেই চরম উদ্বেগে দিন গুনছে ভারতের নীতি নির্ধারকেরা।

চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়

দিল্লির আমন্ত্রণ উপেক্ষা করে এবার সরাসরি বেজিং ও রিয়াদের প্রতিরক্ষা বলয়ে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে শেখ হাসিনাকে যেভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত, বর্তমান বাংলাদেশে সেই ‘প্রভুত্ব’ আর চলায় না পেরে ভারত এখন নানান দিকে চিন্তিত। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন বলছে, চীনের কাছ থেকে অত্যাধুনিক ২০টি জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান কিনতে চলেছে ঢাকা।

বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে প্রায় ২৩০ কোটি ডলারের এই মেগা সামরিক চুক্তির কাজ এখন চূড়ান্ত ধাপে। গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় তৎকালীন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রক্রিয়ার সূচনা করে। প্রতিটি যুদ্ধবিমানের দাম পড়ছে প্রায় সাড়ে ১১ কোটি ডলার, যার মধ্যে রয়েছে কারিগরি সহায়তা ও লজিস্টিক সুবিধা। আগামী এক দশকে এই অর্থ পরিশোধ করবে বাংলাদেশ।

জে-১০সিই-এর প্রতি আগ্রহের কারণ

কিন্তু চীনা জেটের প্রতি ঢাকার কেন এই তুমুল আগ্রহ? তারেক রহমানের সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতের শক্তিশালী রাফালকে পরাস্ত করে নিজের জাত চিনিয়েছিল এই জে-১০সিই। যদিও ফরাসি নির্মাতা সংস্থা দাসো এবং ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান এই দাবিকে চক্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। উল্টে তাদের দাবি, ওই যুদ্ধে পাকিস্তানেরই বেশ কয়েকটি জেট ও আকাশযান ধ্বংস করা হয়েছিল।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহ

ভারতীয় আধিপত্যের বদলে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশ চোখ রাখছে মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক অক্ষের দিকেও। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ যাকে ‘ইসলামীয় ন্যাটো’ বলা হচ্ছে তাতে যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ। রিয়াদ সফরে গিয়ে খুব শিগগিরই সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের অধীনস্থ ও নির্ভরশীল পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ এখন নিজস্ব সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থকে দিচ্ছে সর্বোচ্চ প্রাধান্য। ভারতকে একতরফা ছাড় দেওয়ার দিন যে শেষ এবং বাংলাদেশ এখন সমান মর্যাদা নিয়ে বিশ্বে নিজের অবস্থান শক্ত করছে, বেজিং আর রিয়াদের সাথে ঢাকার এই সাম্প্রতিক সামরিক রসায়নই যেন তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।