সোমবার

৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩

ধর্মীয় সামাজিক সংঘাতে শীর্ষ ছয় দেশের একটি বাংলাদেশ

বাংলা এডিশন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৩৫

শেয়ার

ধর্মীয় সামাজিক সংঘাতে শীর্ষ ছয় দেশের একটি বাংলাদেশ
ছবি সংগৃহীত

২০২৩ সালে ধর্মকে কেন্দ্র করে সামাজিক সংঘাত ও সহিংসতার মাত্রায় বিশ্বের শীর্ষ ছয় দেশের একটি ছিল বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জরিপ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চের প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে ‘খুবই উচ্চ’ মাত্রার ধর্মীয় সামাজিক সংঘাতের দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৩ সালে বিশ্বের ১৯৮টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ৫৫টিতে ধর্মকে ঘিরে সামাজিক সংঘাত বা বিরোধের মাত্রা ছিল উচ্চ বা খুবই উচ্চ। ২০২২ সালে এমন দেশ ও অঞ্চলের সংখ্যা ছিল ৪৫টি।

পিউ রিসার্চের গত ১৫ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে ধর্মকে ঘিরে সামাজিক সংঘাতের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল ছয়টি দেশে। দেশগুলো হলো নাইজেরিয়া, ভারত, ইসরায়েল, সিরিয়া, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।

বাংলাদেশ-ইসরায়েলে সংঘাতের মাত্রা বেড়েছে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরায়েল ও বাংলাদেশ ধর্মীয় সামাজিক সংঘাতের ‘খুবই উচ্চ’ শ্রেণিতে উঠে আসে। দুই দেশেই বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।

ইসরায়েলের ক্ষেত্রে ৭ অক্টোবর দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের হামলা এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ৩ ও ৪ মার্চ উত্তরাঞ্চলে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হামলা ও সহিংসতার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

সামাজিক সংঘাত সূচক বা সোশ্যাল হসটিলিটিজ ইনডেক্সের (এসএইচআই) হিসাবে ২০২৩ সালে এই ছয় দেশের প্রতিটির স্কোর ছিল অন্তত ৭ দশমিক ৫। ফলে দেশগুলো ‘খুবই উচ্চ’ শ্রেণিতে স্থান পায়।

এসএইচআইতে ৭ দশমিক ২ থেকে ১০ পর্যন্ত স্কোরকে ‘খুবই উচ্চ’ এবং ৩ দশমিক ৬ থেকে ৭ দশমিক ১ পর্যন্ত স্কোরকে ‘উচ্চ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশের এসএইচআই স্কোর ২০২২ সালে ছিল ৬ দশমিক ১। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৮-এ। এর আগের বছর বাংলাদেশ ‘উচ্চ’ শ্রেণিতে থাকলেও ২০২৩ সালে দেশটি ‘খুবই উচ্চ’ শ্রেণিতে উঠে আসে।

পঞ্চগড়ে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলার উল্লেখ

পিউ রিসার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে সংঘবদ্ধ সহিংসতায় মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশের স্কোর বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

ওই বছরের ৩ ও ৪ মার্চ পঞ্চগড় জেলার আহমেদনগর গ্রামে বার্ষিক সমাবেশ চলাকালে শত শত মানুষ আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় দুজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। হামলাকারীরা বহু আহমদিয়া বাড়ি, একটি আহমদিয়া মসজিদ ও একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়।

একই বছরের শুরুতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার একটি গ্রামে এক হিন্দু ব্যক্তির বাড়িতেও কয়েক শ মানুষ হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ ছিল, ওই ব্যক্তি ফেসবুকে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননা করে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন।

৫৫ দেশে উচ্চ বা খুবই উচ্চ সামাজিক সংঘাত

পিউ রিসার্চের হিসাবে, ২০২৩ সালে ১৯৮টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ৫৫টিতে ধর্মকে কেন্দ্র করে সামাজিক সংঘাতের মাত্রা ছিল উচ্চ বা খুবই উচ্চ। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠনের মাধ্যমে হয়রানি, হামলা এবং সংঘবদ্ধ সহিংসতার মতো ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৩ সালে ৫৮টি দেশ ও অঞ্চলে ধর্মের ওপর সরকারি বিধিনিষেধের মাত্রা ছিল উচ্চ বা খুবই উচ্চ। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫৯টি।

এর মধ্যে ২৫টি দেশে ধর্মের ওপর সরকারি বিধিনিষেধের মাত্রা ছিল খুবই উচ্চ। এসব দেশের মধ্যে চীন, ইরান, আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সিরিয়া ও উজবেকিস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

দুই সূচকে বিশ্লেষণ

পিউ রিসার্চ দুটি সূচকের ভিত্তিতে এই তথ্য বিশ্লেষণ করেছে।

সামাজিক সংঘাত সূচক বা সোশ্যাল হসটিলিটিজ ইনডেক্সে ধর্মসম্পর্কিত ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত ও সংগঠনভিত্তিক শত্রুতার ১৩টি সূচক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সন্ত্রাসী সংগঠনের কর্মকাণ্ডও রয়েছে।

অন্যদিকে, সরকারি বিধিনিষেধ সূচক বা গভর্নমেন্ট রেস্ট্রিকশনস ইনডেক্সে সরকার, সরকারি কর্মকর্তা, আইন ও নীতির মাধ্যমে ধর্মের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ২০টি সূচক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দুই সূচকের স্কোরই ০ থেকে ১০ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। গবেষণার এই অংশে যেসব দেশ যেকোনো একটি সূচকে উচ্চ বা খুবই উচ্চ স্কোর করেছে, সেগুলোর অবস্থান এবং বছরভিত্তিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই ধর্মকে ঘিরে সামাজিক সংঘাতের মাত্রা ছিল নিম্ন বা মাঝারি। একইভাবে অধিকাংশ দেশে ধর্মের ওপর সরকারি বিধিনিষেধও ছিল নিম্ন বা মাঝারি পর্যায়ে।