রবিবার

৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩

বন্যার্তদের পুনর্বাসনে যুক্ত হচ্ছে বেসরকারি খাত: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৩৬

শেয়ার

বন্যার্তদের পুনর্বাসনে যুক্ত হচ্ছে বেসরকারি খাত: অর্থমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে বরাদ্দ করা সহায়তা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকারের তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উন্নয়ন ও প্রতিবন্ধীদের সহায়তার মতো কার্যক্রমে এনজিও এবং বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা হচ্ছে।

রবিবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস মিলনায়তনে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন সহায়তা প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষে এককভাবে সব ধরনের সহায়তা সঠিকভাবে বিতরণ করা কঠিন। এতে দুর্নীতি ও অপচয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিতরণব্যবস্থায় বেসরকারি খাত ও এনজিওকে যুক্ত করা হলে কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয় এবং অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ কমে।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ব্র্যাকসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে এই অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রকৃত পুনর্বাসন নিশ্চিত না হলে মানুষের প্রতি কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

গত জুলাইয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িসহ ১০ জেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে প্রায় ৮ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।

এইচএসবিসি ব্যাংকের অর্থায়নে ব্র্যাকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির আওতায় পুনর্বাসন সহায়তা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৬ সালের ২৬ জুলাই শুরু হওয়া প্রকল্পটি চলবে ২০২৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড এবং কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিভিন্ন পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এর আওতায় ৪০০ পরিবারকে ল্যাট্রিন নির্মাণে সহায়তা, ৩০টি টিউবওয়েল পুনর্বাসন, ২৫০ পরিবারকে ঘর মেরামতে সহায়তা, ৩০০ পরিবারকে জীবিকা সহায়তা এবং ৬০০ পরিবারকে কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ৫০টি বিদ্যালয় পুনর্বাসন করা হবে এবং ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে ৩০০টি সচেতনতামূলক সেশন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক চৌধুরী এবং সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।