রবিবার

৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩

গুমের মাস্টারমাইন্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জামায়াত আমিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৫৪

শেয়ার

গুমের মাস্টারমাইন্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জামায়াত আমিরের
ছবি সংগৃহীত

গুমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত মাস্টারমাইন্ডদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। এ দিনে গুমের শিকার নিরপরাধ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ এবং তাদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর প্রিয়জনের সন্ধান না পেয়ে অসংখ্য পরিবার মানসিক ট্রমা ও মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। অনেক পরিবার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

জামায়াত আমির বলেন, আধুনিক সভ্যতার যুগেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মানুষ গুমের শিকার হচ্ছেন। তার দাবি, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম ছিল না।

বিভিন্ন দেশি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। বিরোধী মত দমন ও কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যে ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ আট বছর গুম থাকার পর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম ফিরে এলেও জামায়াত নেতা হাফেজ জাকির হোসাইন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিবির নেতা আল মোকাদ্দাস ও মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী এবং সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমসহ বহু নিখোঁজ ব্যক্তি এখনও ফিরে আসেননি।

তিনি আরও বলেন, গুম প্রতিরোধ ও জড়িতদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন করেছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর নবগঠিত সরকার সেটিকে আইনে পরিণত করেনি।

সরকারের পক্ষ থেকে অধ্যাদেশটির বিভিন্ন বিধানে অসঙ্গতির কথা বলা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তীতে সংশোধন এনে নতুন খসড়া বিল প্রণয়ন করা হলেও এতে আইনটির মূল উদ্দেশ্য অকার্যকর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নতুন খসড়া বিলে গুমের অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তার মতে, গুমের মতো বিশেষ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে বিশেষ ও স্বাধীন তদন্তব্যবস্থা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের তদন্তভার পুনরায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতেই তুলে দেওয়া অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত।

গুম সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব সরকারের ওপর ন্যস্ত করার বিষয়েও সংশয় প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে নতুন বিলে গুম সংক্রান্ত তদন্ত ও অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বাদ দেওয়ার সমালোচনা করেন তিনি।

তার মতে, গুমের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনের মতো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থার হাতে থাকা উচিত।

বিবৃতির শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, সরকার নিখোঁজ ও গুম হওয়া সব নাগরিককে দ্রুত উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

পাশাপাশি গুমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তি এবং মাস্টারমাইন্ডদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, গুমকে বিশেষ অপরাধ হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি দিয়ে এর সঠিক অনুসন্ধান, সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের জন্য একটি বিশেষ ও স্বাধীন আইনি কাঠামো গঠন করা প্রয়োজন।