শনিবার

২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩

প্রাণ কোম্পানির টেস্টি ট্রিট অভিনব তারিখ জালিয়াতির প্রমাণ

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ২২:১৫

আপডেট: ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ২২:২৫

শেয়ার

প্রাণ কোম্পানির টেস্টি ট্রিট অভিনব তারিখ জালিয়াতির প্রমাণ
ছবি বাংলা এডিশন

আস্থার নাম যখন পরিণত হয় আতঙ্কে। ভোক্তাদের বিশ্বাসকে পুঁজি করে দেশজুড়ে প্রতারণার জাল বিছিয়েছে স্বনামধন্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান প্রাণ। রাজধানীতে প্রাণেরই জনপ্রিয় দুই অঙ্গপ্রতিষ্ঠান টেস্টি ট্রিট ও মিঠাইয়ের আউটলেটে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে মিলছে মেয়াদোত্তীর্ণ কেক আর অস্বাস্থ্যকর খাবার।

কাগজে-কলমে খাবারের উৎপাদন তারিখ এক, আউটলেটে পৌঁছানোর তারিখ আরেক, আর মেয়াদের হিসাব শুরু সম্পূর্ণ ভিন্ন নিয়মে। এমনই অভিনব কৌশলে ক্রেতাদের হাতে বাসি ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার তুলে দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে রাজধানীর বিভিন্ন টেস্টি ট্রিট আউটলেটে। কারখানায় পণ্য উৎপাদনের দিন থেকে মেয়াদের গণনা শুরু হওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা কাউন্টডাউন শুরু করে আউটলেটে ডিসপ্লে করার দিন থেকে।

তিন দিনের মেয়াদী খাবার ইচ্ছেমতো বাড়ানো

তিন দিনের মেয়াদী খাবারকে মার্কেটিং ডেট ও রিসিভিং ডেটের দোহাই দিয়ে ইচ্ছেমতো বাড়ানো হচ্ছিল আয়ু। এমনকি কম্পিউটারের চালানে সফটওয়্যার ভিত্তিক তারিখের গোলকধাঁধা তৈরি করে ক্রেতাদের সঙ্গে চলছিল নিয়মিত প্রতারণা।

টেস্টি ট্রিট বা মিঠাইয়ের চকচকে আউটলেটেই শেষ নয়। এর আগে পাবনার চাটমোহরে প্রাণ ডেইরি হাব সেন্টারে দেখা গিয়েছে ভয়ংকর চিত্র। আড়াই হাজার লিটার দুধে মেশানো হচ্ছিল ডিটারজেন্ট আর প্রাণঘাতী কেমিক্যাল। হাতে নাতে ধরা পড়ার পর ধ্বংস করা হয় সেই ভেজাল দুধ। কারাদণ্ড হয় প্রাণের তিন কর্মকর্তার।

কর্তাব্যক্তিদের এমন গালভরা বুলি আর ল্যাব টেস্টের বড়াই যেন স্রেফ উড়ে গেছে প্রশাসনের অভিযানে। দিনের পর দিন নামসর্বস্ব গুণগত মানের দোহাই দিয়ে দেশজুড়ে ভেজাল পণ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে এই চক্র।

ভোক্তা অধিকারের হুঁশিয়ারি

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলার সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার বলেন, সচেতনতার অভাবে প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকিতে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। অসাবধানতা ও অনিয়মের কারণে বাড়ছে স্বাস্থ্যহানি। ঘটছে অকাল মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনাও। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুরুতেই কঠোর না হয়ে ব্যবসায়ীদের সচেতন ও সংশোধনের সুযোগ দিতে চায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

অধিদপ্তর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বোঝানোর পরও নিয়ম না মানলে অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে সর্বোচ্চ কঠোর আইনি ব্যবস্থা।

ব্র্যান্ডের চকচকে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে আর কতকাল চলবে এমন রমরমা ভেজাল বাণিজ্য। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কবে নেওয়া হবে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা সেই উত্তরের অপেক্ষাতেই ভোক্তারা।