শনিবার

২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩

রোমান্সের নামে অশ্লীলতা এবার আইনের কড়া নজর

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১১:১৩

শেয়ার

রোমান্সের নামে অশ্লীলতা এবার আইনের কড়া নজর
ছবি বাংলা এডিশন

একসময় দেশে চলচ্চিত্র জগত মানে ছিল সাধারণ মানুষের না-বলা কথা। দেশের অন্যায়-অনিয়মের পাশাপাশি ফুটে উঠত গ্রামীণ জীবনের স্বচ্ছ প্রতিচ্ছবি। কিন্তু কালের আবর্তনে সেই জগত যেন রূপ নিয়েছে রুচির দুর্ভিক্ষ, বেহায়পনা এবং অশ্লীলতায়।

বিশ্লেষকদের মতে, রোমান্স আর প্রেমকাহিনির নামে নগ্ন ও অর্ধনগ্ন নাটক-সিনেমা দিয়ে যুবসমাজকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এক অন্ধকার জগতে। সামাজিক ও শিক্ষণীয় নাটক-সিনেমার পরিবর্তে নির্মাণ করা হচ্ছে সমাজবিধ্বংসী চলচ্চিত্র। যেখানে গল্পের চেয়ে নারী-পুরুষের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত এবং নায়িকার দেহ প্রদর্শন করাই যেন হয়ে ওঠে সিনেমার মুখ্য দৃশ্য।

এছাড়াও ছোট পর্দার বাংলা নাটক—যা একসময় পরিবারের ছোট-বড় সবাই একসঙ্গে দেখত—সেই নাটকেই এখন তুলে ধরা হয় অসামাজিক চিত্র। যার কারণে পরিবারের সদস্যরা চাইলেও একসঙ্গে বসে দেখতে পারেন না সেই সিনেমা বা নাটক।

আইনি নোটিশ প্রেরণ

এই বাস্তবতার মধ্যেই প্রেম ও রোমান্সনির্ভর সিনেমা ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচারে কড়াকড়ি আরোপের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। যা ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ আইনি নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে বলেও জানা যায়। যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ, সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তরুণদের সৃজনশীল মেধার বিকাশ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই নোটিশ—এমনটাই দাবি আইনজীবীর।

নোটিশের অভিযোগ ও দাবি

নোটিশে দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে দেশের নাটক ও সিনেমায় প্রেম ও রোমান্সনির্ভর গল্পের আধিক্য তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকেও বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, কিছু নাটক ও সিনেমায় পরকীয়া এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপনের অভিযোগও আনা হয়েছে সেখানে। এ ধরনের উপস্থাপন পারিবারিক ও সামাজিক নৈতিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও আইনি নোটিশে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবিধানের ২১(১), ৩৯ ও ২৩ অনুচ্ছেদের কথাও তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানা যায়।

নোটিশের পর প্রতিক্রিয়া

আর নোটিশের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই যেন পর্দার বাইরেও শুরু হয় নতুন এক নাটক। নোটিশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন আইডি থেকে ইসলামপন্থিদের সরাসরি কটাক্ষ করতেও দেখা যায় সংশ্লিষ্টদের।

এছাড়াও পরিচালক ছটকু আহমেদকেও নোটিশের সমালোচনা এবং রোমান্টিক নাটকের পক্ষে সাফাই গাইতেও দেখা গেছে একটি ভিডিওতে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বেহায়াপনা ও নগ্নপনার পুঁজিবাদী ব্যবসায়ীদের ব্যবসা যেন বন্ধ না হয়ে যায়—এ কারণেই তারা ইসলামপন্থিদের বিভিন্ন জায়গায় কটাক্ষ করছে। সবমিলিয়ে, যে নাটক-সিনেমা একসময় সামাজিক শালীনতার চাদরে আবৃত ছিল, সেই চলচ্চিত্রই যেন হয়ে উঠেছে যুবসমাজকে ধ্বংসের এক শক্তিশালী পথ। বিশ্লেষকদের মতে, সমাজের অবক্ষয় দূর করতে হলে এসব অসামাজিক নাটক-সিনেমা বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।