শুক্রবার

২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৩ ভাদ্র, ১৪৩৩

'মক্কা চুক্তি' নিয়ে চিন্তায় ভারত

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০০

আপডেট: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ২১:০১

শেয়ার

'মক্কা চুক্তি' নিয়ে চিন্তায় ভারত
ছবি বাংলা এডিশন

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি, যা পশ্চিমা মাধ্যমে ইসলামি ন্যাটো নামে পরিচিত, তাতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের খবরে ভারতের নীতি নির্ধারক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ঢাকার এই পদক্ষেপ দিল্লির পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিতে নতুন অস্বস্তি তৈরি করছে।

যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রেক্ষাপট

চুক্তি অনুযায়ী তিন দেশের যে কোনো একটিতে সশস্ত্র হামলা মানে সবার ওপর হামলা। এই সমঝোতার পর সেনাপ্রধানের চার খলিফার নামে সেনার ইউনিট নামকরণ এবং আঙ্কারা সফরের বিষয়টিও ভারতের নজর এড়ায়নি। এদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদন আর আইএসআই দপ্তর খোলার গুঞ্জনে দিল্লির শঙ্কা, বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে গেলে আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাবে। সরাসরি সংঘাতের রাজনীতিতে না গিয়ে অর্থনৈতিক ও সামরিক সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ঢাকা।

ঢাকার অবস্থান ও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য

প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির রিয়াদ-ইসলামাবাদ-আঙ্কারা জোটে ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে, সিদ্ধান্ত হবে শতভাগ জাতীয় স্বার্থের জন্য, কোনো অন্ধ অনুকরণ না করে।

বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কে অতীতে ওআইসি মহাসচিব পদের ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাংবাদিক মিনার রশীদ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের একটি বক্তব্যের ফটো কার্ড শেয়ার করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে শহীদ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওআইসি মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আপত্তি তুললে সাকা চৌধুরী তাঁর স্বভাবসুলভ চাঁচাছোলা জবাব দিয়েছিলেন। সে সময় একটি গোষ্ঠী কঠোর সমালোচনা করে একটি পত্রিকায় পানির হোস দিয়ে মাইক্রোফোন পরিষ্কারের কার্টুনও প্রকাশ করেছিল।

মিনার রশীদের মতে, একটি পত্রিকা ও টিআইবির সমালোচনার জবাবে শীর্ষ কূটনীতিক ও রাজনীতিক হিসেবে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উপযুক্ত উত্তরই দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীকে ২১ তোপধ্বনি স্যালুট জানানোর পাশাপাশি নাগরিকত্ব বিষয়ে ওঠা আইনি প্রশ্নের বিষয়টিও আইনমন্ত্রী পরিষ্কার করেছেন বলে উল্লেখ করেন এই সাংবাদিক। এ বিষয়ে তিনি বাংলা এডিশনকে দেওয়া বক্তব্যে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান।

বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন

বিশ্লেষকরা বাংলা এডিশনকে জানান, ভারতের এই প্রতিক্রিয়া মূলত ভারতের নিজস্ব কৌশলগত উদ্বেগের জায়গা থেকে। তবে বহুপাক্ষিক এই জোটে যুক্ত হয়ে অন্য দেশের যুদ্ধে না জড়িয়ে যদি বাংলাদেশ সামরিক প্রযুক্তি, যৌথ প্রশিক্ষণ এবং পরমাণু সুরক্ষার সুফল নিশ্চিত করতে পারে, তবে তা জাতীয় প্রতিরক্ষাকে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাবে। এখানে আবেগের চেয়ে কূটনৈতিক ভারসাম্যই মূল কথা।

রিয়াদ সফরে চূড়ান্ত সমীকরণ

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন রিয়াদ সফরেই হয়তো নির্ধারিত হবে চূড়ান্ত সমীকরণ। দিল্লির চাপ কাটিয়ে সার্বভৌম প্রতিরক্ষা গড়ার এই সুযোগ বাংলাদেশ কীভাবে কাজে লাগায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।