চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আশরাফুল হক ডন। ঢালিউডের পরিচিত এই খলনায়ককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়ের রানা এ আদেশ দেন।
রিমান্ড আবেদন ও শুনানি
এর আগে গত ২০ আগস্ট মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা, সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান, ডনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শুনানি মাধ্যমে রিমান্ড মঞ্জুর করা হলো ডনের।
বিমানবন্দরে আটক
গত ৯ আগস্ট ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আশরাফুল হক ডনকে আটক করে।
তাকে আটকের পর থেকেই, একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। এর আগে জানা যায়, চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার জন্য খলনায়ক ডনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করেছিলেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই।
হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইস্কাটনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল মাত্র ২৫ বছর বয়সী মহানায়ক সালমান শাহ’র মরদেহ। সেদিনের সেই ঘটনা যে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিলো, তা আদালতেও আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, সালমানের স্ত্রী সামিরার সঙ্গে প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের গোপন সম্পর্ক ছিলো। আর সেই সম্পর্কের জের ধরেই আজিজ মোহাম্মদ ভাই পথের কাঁটা সরাতে টাকার বিনিময়ে ডনের সাথে খুনের চুক্তি করেন।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, ভেসে বেড়ানো একটি ছবি দিয়ে অনেকেই দাবি করে সালমানের স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক ছিলো ডনের।
একইভাবে, সামিরার অবৈধ সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়েছে নানা সময়েই। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া, সালমানের একটি অডিও রেকর্ড থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সালমানের বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী আব্দুল খালেকের সাথেও অবৈধ সম্পর্ক ছিলো সামিরার।
ওই রেকর্ডে বেরিয়ে এসেছে খালেকের সাথে, সালমানের স্ত্রী সামিরা হকের গোপন সম্পর্কের লোমহর্ষক তথ্য।
বিভিন্ন সময়ে এসব নিয়ে অভিযোগ তুলে, অনেকেই দাবি করেছে, বহুপুরুষে আসক্ত সামিরাই মূল পরিকল্পনাকারী সালমান হত্যার। এছাড়া, এমন দাবি অনেক আগে থেকেই করে আসছেন সালমানের মা নীলা চৌধুরী।
ভক্তদের দাবি
খলনায়ক ডন আইনের আওতায় আসার পর, সামিরা হকসহ সালমান হত্যার সব আসামীকেই অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে ভক্তরা।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভূমিকা
দীর্ঘ সময় সালমান হত্যা মামলাটি অন্ধকারে ঢাকা থাকলেও, পর্দার পেছনের অন্ধকার চক্রান্তের জট খুলতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
সেই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনেও সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছিল, কীভাবে ডনসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা মিলে পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডকে নিপুণভাবে আত্মহত্যার নাটক হিসেবে সাজিয়েছিল। এমনকি, কে কাকে কীভাবে এবং কতো টাকা দিয়ে এই কিলিং মিশন বাস্তবায়ন করেছিল, তারও বিস্তারিত বিবরণ ছিল ওই প্রতিবেদনে।
অবশেষে ডনকে ধরার নেপথ্যে সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের সেই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটিই যেন বিচারপ্রার্থীদের কাছে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে। এখন দেখার অপেক্ষা, ডনের রিমান্ড শেষে সালমান শাহ হত্যার চূড়ান্ত বিচার কোন পথে গড়ায়।
আরও পড়ুন:







