সরকারের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় সম্প্রসারণ করা হয়েছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তোলে দৈনিক প্রথম আলোসহ একাধিক গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের দাবি, শপথ নেয়ার আগে তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ বা রিনাউন্স করেছেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
সরকারের অবস্থান
সাংবিধানিক শূন্যতা বা আইনি জটিলতার এমন অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্ট করেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংবিধানের কোনো লঙ্ঘন হয়নি।
নাগরিকত্ব ত্যাগের সরাসরি উত্তর দেননি খোদ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও। বরং গণমাধ্যমের এমন প্রশ্নের পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে কি না, উল্টো সেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা
মূলধারার গণমাধ্যমের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স নামের একটি প্ল্যাটফর্ম একে আখ্যা দিয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিডিয়া ট্রায়াল হিসেবে। তাদের দাবি, বাংলাদেশ নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে মক্কা নিরাপত্তা চুক্তির মতো স্বাধীন কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন একটি বলয়। আর সেই ক্ষোভ থেকেই প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে ভারত নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম প্রথম আলো।
আওয়ামী লীগের মার্কিন পাসপোর্টধারী আব্দুল মোমেন কিংবা ইইউ পাসপোর্টধারী হাছান মাহমুদকে নিয়ে গণমাধ্যমের রহস্যময় নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে সরব থাকলেও অতীতে কেন হাসান মোমেনদের নিয়ে চুপ ছিলো ওই মহল সে বিষয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে।
অনলাইন এক্টিভিস্টের পোস্ট
এই বিতর্ক নিয়ে অনলাইন এক্টিভিস্ট ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন একটি পোস্ট দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তাঁর দাবি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের কারণেই একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছেন হুমায়ুন কবির।
সাংবিধানিক বিধিনিষেধ নাকি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ওপর ভূ-রাজনৈতিক চাপ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে প্রথম আলোর খবর এবং পাল্টা সামাজিক প্রতিবাদের এই লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন:







