মঙ্গলবার

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩

১৭ বছর দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ট্রেন্ড ছিল: পানিসম্পদ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:১৮

শেয়ার

১৭ বছর দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ট্রেন্ড ছিল: পানিসম্পদ মন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ট্রেন্ড ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ভারতীয় পানি আগ্রাসন প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ভারতকেও চিন্তা করতে হবে বাংলাদেশ তাদের পার্শ্ববর্তী বন্ধুপ্রতিম দেশ। বন্ধুত্বের সম্পর্ক কতটুকু ইতিবাচক হওয়া দরকার, তা তাদের দেখা উচিত। তিনি আশা করেন, ভারত এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সজাগ থাকবে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবে। কোনো ধরনের আগ্রাসনের শিকার যেন দেশের মানুষ না হন, সেজন্য সরকার আরও সজাগ থাকবে বলেও জানান তিনি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে উল্লেখ করে শহীদ উদ্দীন এ্যানি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ট্রেন্ড ছিল। এখন জনগণ তাদের নির্বাচিত করেছে এবং তারা দায়িত্ব নিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন। এ মুহূর্তে জিরো টলারেন্সে চলে যাব বলব না। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই চ্যালেঞ্জ তারা হাতে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে এ প্রকল্পসহ দেশের সব প্রকল্প যথাযথভাবে শেষ করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা এবং দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করা তার নিজেরও দায়িত্ব। কোনো ধরনের প্রভাবশালীর প্রভাব, দুর্নীতি বা কেউ যেন ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা সজাগ থাকবেন।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণ নেই। দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছু জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিয়েই কাজ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধের ভাঙন ও বন্যায় মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমবে। সামগ্রিকভাবে বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ এ প্রকল্পের সুফল পাবেন।

২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার আশা প্রকাশ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, আগামী মাসের যেকোনো সময় বা মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে এসে প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করবেন। এ সময় তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন।

এ সময় ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এমএ খালেক, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ এখনো শুরু হয়নি।

প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।