একদিকে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে যখন ভিত্তিহীন ও উত্তপ্ত স্লোগান এবং বিভিন্ন অযৌক্তিক কর্মসূচিতে রাজপথ সরগরম; ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সরকারের সমালোচনায় মরিয়া হয়ে রয়েছেন কিছু কথিত সাংবাদিক, উপস্থাপক এবং চলচ্চিত্র জগতের চিহ্নিত মডেল, অভিনেতা ও অভিনেত্রীরা।
অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকে দেশের ভেতর, আবার কেউ কেউ দেশের বাইরে থেকে সরকারের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সমালোচনা করছে। আবার অনেকে জুলাই নিয়ে করছে সরাসরি কটাক্ষ, কেউ-বা রাজনৈতিক সমীকরণে প্রকাশ্যে ফ্যাসিবাদের পক্ষ নিয়ে বিতর্কিত হয়েছে নানা সময়ে।
জুলাইবিরোধী ফ্যাসিস্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্র
অভিযোগ উঠেছে, জুলাইবিরোধী ফ্যাসিস্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নে দেশের ভেতর থেকেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত মিডিয়া জগতের বেশ কিছু ব্যক্তি। প্রতিনিয়ত যাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনার শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ ২৪-এর জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবার এবং জুলাইয়ের চেতনা।
বিশ্লেষকদের মতে, ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে হামলা চালিয়েছিল, সেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে ফেরাতে যারা মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে নেমেছে, তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গোলাম মাওলা রনি।
কখনো প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি কটাক্ষ, আবার কখনো তার সম্পদ নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রশ্ন করে, ফ্যাসিস্ট এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে রনি, রয়েছে এমন সমালোচনা।
এছাড়াও, যে কোনো সময় শেখ হাসিনা ফিরে আসতে পারেন-এমন মন্তব্যও করেও, রাজনৈতিক উসকানি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে রনিকে ঘিরে।
সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নার বিতর্কিত ভূমিকা
একইভাবে, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাও একাধিকবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বলে, বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি তাকে, একটি টকশোতে কোটা আন্দোলন নিয়েও নেতিবাচক প্রশ্ন তুলতে দেখা গেছে।
এছাড়াও, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিএনপি সরকারের অবস্থান নিয়েও একটি ভিডিওতে তাকে সংশয় প্রকাশ করতে দেখা যায়।
আনিস আলমগীরের আওয়ামী প্রীতির বয়ান
অন্যদিকে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সাংবাদিক আনিস আলমগীর দেশের ভেতর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে সমালোচনা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আনিস আলমগীরের বক্তব্যে ফ্যাসিস্টের দল আওয়ামী প্রীতির স্পষ্ট বয়ানও লক্ষ করা যায়।
সম্প্রতি একটি টকশোতে, বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী নিয়েও মন্তব্য করতে দেখা যায় আনিসকে। তার দাবি, ১৫ আগস্টকে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী হিসেবে ঘোষণা করা ছিলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মেহের আফরোজ শাওনসহ অন্যদের অপ্রীতিকর মন্তব্য
অপরদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাইকে ‘সিডিআই’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে সাধারণ মানুষের তোপের মুখে পড়েন আওয়ামী দোসরখ্যাত বিতর্কিত অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। যেকারণে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে, সর্বমহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
সাংবাদিকতার জগতে উপস্থাপিকা নবনিতা চৌধুরীও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পক্ষ বয়ান উৎপাদনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের পক্ষে সাফাই গাওয়ার অভিযোগ এখনও রয়েছে এই সাংবাদিককে ঘিরে।
এছাড়াও, সাংবাদিক সোমা ইসলাম, শারমিন সুলতানা, মাসুদ কামাল, মাহিয়া মাহি, পিয়া জান্নাতুল, শামীমা তুষ্টিসহ নামধারী আরও অনেককে নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে নানা বিতর্ক। যাদের অনেকে দেশে বসে, আবার কেউ কেউ বিদেশে থেকে সরকারের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রত্যক্ষ সমালোচনা, জুলাইকে নিয়ে নানা সময়ে অপ্রীতিকর মন্তব্য এবং সরাসরি ভারত এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ
অন্যদিকে, বর্তমান সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেককেই, বিভিন্ন সময়ে বিরোধীদলের বিরুদ্ধে, অকারণে সমালোচনা ও নানা ন্যারেটিভ ছড়াতে সরব দেখা গেলেও, তারেক রহমানের সমালোচক কিংবা ফ্যাসিবাদের এজেন্ডাধারীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে দেখা যায় না বলে, ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনৈতিক চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে এসে, ফ্যাসিবাদের এজেন্ডাধারীদের দমন করতে পারলেই বর্তমান সরকার রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারবে। অন্যথায়, স্লোগানের এই উত্তাপ, ন্যারেটিভের এই সংঘাত আর রাজনৈতিক বিভাজনের আগুন আরও বহুদূর গড়াতে পারে বলেই, সন্দেহ রাজনীতির অন্দরমহলে।
আরও পড়ুন:








