রবিবার

২৩ আগস্ট, ২০২৬ ৮ ভাদ্র, ১৪৩৩

ঢাকার চীনা দূতাবাসে ইমেইলে হামলার হুমকি, তদন্তে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৪৮

শেয়ার

ঢাকার চীনা দূতাবাসে ইমেইলে হামলার হুমকি, তদন্তে পুলিশ
ছবি সংগৃহীত

ঢাকার চীনা দূতাবাসে ইমেইলের মাধ্যমে হামলার হুমকির ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। হুমকির পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে ডিএমপির সিটিটিসি ও পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন।

গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে একটি উগ্রবাদী সংগঠনের নামে ইমেইল করে ওই হামলার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বিষয়টি জানার পর দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার করা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনাও ঘটেছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে সিটিটিসি ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ত্রাসবাদ দমন ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুন্সি শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে ঢাকার বারিধারায় একটি দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক হয়। এতে পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখার কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত অন্তত ১০ জন বিদেশি নাগরিকও উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নামে ইমেইলের মাধ্যমে চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। হুমকি পাওয়ার পর বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তর ও সিটিটিসিকে জানায় দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। পরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে দূতাবাসে যান পুলিশ কর্মকর্তারা।

চীনা দূতাবাসের বৈঠকের পর জাপানি দূতাবাসেও বৈঠক করেন সিটিটিসির কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঢাকার বারিধারায় জাপানি দূতাবাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সঙ্গে বৈঠক করেন সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুন্সি শাহাবুদ্দিন।

এ বিষয়ে সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুন্সি শাহাবুদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে তারা সেখানে গিয়ে বৈঠক করেছেন। কারা এবং কোন উগ্রবাদী সংগঠন থেকে ইমেইল পাঠানো হয়েছে, তা বের করার চেষ্টা চলছে। হুমকিদাতাদের চিহ্নিত করার কাজও চলমান রয়েছে। তবে এটি স্ক্যাম মেইলও হতে পারে।

নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, দূতাবাসের জন্য ডিপ্লোমেটিক জোনের পুলিশ রয়েছে। তারাই নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবেন।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসব বস্তু নিষ্ক্রিয় করে। এর মধ্যে রাজধানীর ডেমরা এলাকায় দুটি বোমা সদৃশ বস্তুসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তার ওই যুবক জেএমবির সদস্য। তিনি মামুন ওরফে বোমা মামুনের ঘনিষ্ঠ বলেও তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এখন পর্যন্ত বোমা মামুনের কোনো হদিস পায়নি তারা।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, কারাগারে তাদের দেখা হওয়ার পর জামিনে বেরিয়ে তারা আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর জাতিসংঘ থেকে উগ্রবাদী সংগঠন আল-কায়েদার বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। ওই বার্তা পাওয়ার পর দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকির বিষয়ে সিটিটিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, হুমকির খবর পেয়ে তারা দূতাবাসে গিয়ে বৈঠক করেছেন। কারা এবং কোন উগ্রবাদী সংগঠন থেকে ইমেইল পাঠানো হয়েছে, তা বের করার চেষ্টা চলছে। হুমকিদাতাদের চিহ্নিত করার কাজ চলমান রয়েছে। দূতাবাসের নিরাপত্তায় ডিপ্লোমেটিক জোনের পুলিশ কাজ করবে।

সূত্র জানায়, দূতাবাসের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে পুলিশ ও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনাও ঘটেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ ও কূটনীতিকদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক চলছে।

হামলার হুমকির পর বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তৎপর হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। রাজধানীর গুলশানসহ বিদেশিদের বসবাস করা এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকির পর ঢাকায় থাকা প্রত্যেকটি দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে হুমকিদাতা সংগঠনকে শনাক্ত ও তাদের অবস্থান জানতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে।



banner close
banner close