একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। আর তাতেই উত্তপ্ত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। সম্প্রতি সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের প্রকাশিত ফিফটিন মিনিটসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
যেখানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং তদবির বাণিজ্যের মতো জালিয়াতির মাধ্যমে এক অদৃশ্য সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলার এক ভয়াবহ অভিযোগ তুলে আনা হয়।
নুরের ফেসবুক পোস্টে প্রতিক্রিয়া
অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের ওই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া জানাতে বিলম্ব করেননি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে, অনুসন্ধানী ওই প্রতিবেদনের গভীর প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায় তাকে।
যেখানে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনকে ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ আখ্যা দিয়ে দাবি করা হয়, ভিনদেশে বসে বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের নিয়ে মনগড়া বিষয়বস্তু তৈরি করছে তারা। নুরের দাবি, শুধুমাত্র বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যেই অর্থের বিনিময়ে গুজব ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোই তাদের মূল পেশা। জুলাই-পরবর্তী সময়ে তারা জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলেও তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
গণঅধিকার পরিষদ জামায়াতের অপরাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার বলেই ইলিয়াস হোসাইন ও পিনাকী ভট্টাচার্য নুরের পেছনে উঠেপড়ে লেগেছেন, এমন অভিযোগও করা হয় ওই পোস্টে। এছাড়াও নির্বাচনের আগে তাকে পরাস্ত করতে নানা ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হয়েছিল বলেও পোস্টে দাবি করা হয়।
নুরের দাবি, এসব অভিযোগ তিনি কখনোই গুরুত্ব দেননি এবং বর্তমানেও এসবের জবাব দিয়ে তাদের গুরুত্ব বাড়াতে চান না। যদিও গুরুত্ব না দেয়ার কথা বলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আরেকটি পোস্ট দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আরও উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায় নুরকে।
গোয়েন্দা এজেন্ট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে করা প্রতিবেদন নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তরে, পিনাকী এবং ইলিয়াস হোসাইনকে গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট বলে অভিযোগ করেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগও তোলেন নুর।
সম্প্রতি তাদের নিয়ে, ফেসবুকে আরও একটি পোস্ট করতে দেখা যায় তাকে। সেখানে তিনি নেতাকর্মী ও ভক্তদের ইলিয়াস হোসাইন ও পিনাকী ভট্টাচার্যের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে তাদের এড়িয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়াও পোস্টে তাদের ‘ভিউ ব্যবসায়ী’, ‘গোপন এজেন্ট’ ও ‘গুজববাজ’ বলে উল্লেখ করা হয়। তারা দেশে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়।
সব মিলিয়ে নুরুল হক নুরকে ঘিরে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি করেছে নতুন আলোচনা। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রে একটাই প্রশ্ন—অভিযোগের সত্যতা যেখানে যাচাইয়ের বিষয়, সেখানে অভিযোগকারীকে অস্বীকার করাই কি যথেষ্ট, নাকি উঠতে থাকা প্রশ্নগুলোরও দিতে হবে স্পষ্ট জবাব?
আরও পড়ুন:








