বৃহস্পতিবার

২০ আগস্ট, ২০২৬ ৫ ভাদ্র, ১৪৩৩

এক্সিলারেটর টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, সংকট আরও বাড়ার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:০৪

শেয়ার

এক্সিলারেটর টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, সংকট আরও বাড়ার শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ আবারও বন্ধ হয়ে গেছে।

পাইপলাইনে পর্যাপ্ত এলএনজি না থাকায় বুধবার বিকেল থেকে এই সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে দেশের চলমান গ্যাস সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি বিভাগের একাধিক সূত্র দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) নিশ্চিত করেছে যে, এলএনজির তীব্র সংকটের কারণে বিকেল ৩টার দিকে এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় টানা ২৫ দিন বন্ধ থাকার পর মাত্র চার দিন আগে টার্মিনালটি আংশিকভাবে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছিল। কিন্তু মজুদ কমে আসায় গত সোমবার থেকেই এই টার্মিনালটি ধীরে ধীরে সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছিল। আজ মজুদ পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ায় এটি বন্ধ হয়ে যায়।

পেট্রোবাংলার অধীনে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) এলএনজি আমদানি তদারকি করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কম দামে এলএনজি পাওয়ার লক্ষ্যে নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে চলতি মাসে চারটি কার্গো আসার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কোনো কার্গোই দেশে এসে পৌঁছায়নি। ফলে কারিগরিভাবে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও কাঁচামালের (এলএনজি) অভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস দিতে পারছে না এক্সিলারেট টার্মিনাল।

বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট টার্মিনালের সক্ষমতা দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং সামিট টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

একটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি এলএনজি কার্গো আসার কথা থাকলেও সেটি সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে, এক্সিলারেট টার্মিনালের জন্য কার্গো আসতে ২৩ বা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। অর্থাৎ, আগামী কয়েকদিন এই টার্মিনালটি পুরোপুরি বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এক্সিলারেট টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় মঙ্গলবার জাতীয় গ্রিডে যেখানে ৬৬০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়েছিল, বুধবার তা কমে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। বর্তমানে সারা দেশে মোট গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২,১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।



banner close
banner close