৭৫-এর পটপরিবর্তনের অন্যতম চরিত্র মেজর ডালিম ও রাশেদ চৌধুরীদের স্বদেশে ফেরানোর দাবি। ডালিম ও রাশেদ চৌধুরীর প্রত্যাবর্তন ঘিরে জটিল সমীকরণ
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং একদলীয় বাকশাল শাসনের অবসান ঘটানোর মূল নেপথ্য কারিগর হিসেবে বিবেচনা করা হয় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর শরিফুল হক ডালিম ও রাশেদ চৌধুরীকে। পরবর্তীতে শেখ মুজিবকে উৎখাত ও কথিত জেলহত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন বিদেশে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছে তাঁরা।
সম্প্রতি ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন পতনের প্রেক্ষাপটে দেশপ্রেমিক এই সামরিক কর্মকর্তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে এনে উপযুক্ত মর্যাদা দেয়ার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
সাবেক কর্মকর্তাদের অবদান মূল্যায়নের তাগিদ
এই একই সুর তুলে ধরে সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের অবদান ও বীরত্বকে সঠিকভাবে মূল্যায়নের জোর তাগিদ দিয়েছেন বীর প্রতীক কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান। তাঁর মতে, জাতীয় জীবনের বীর সন্তানদের উপযুক্ত শ্রদ্ধা ও মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যতে দেশপ্রেমের ধারা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
রাশেদ চৌধুরীর আইনি শর্ত
তবে, সংবর্ধনা কিংবা রাজপথের আহ্বান থাকলেও, স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে ভিন্ন আইনি শর্ত উপস্থিত করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা রাশেদ চৌধুরী। তাঁর স্পষ্ট কথা, আদালতের দেয়া সাজা ও কনভিকশন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত দেশে ফেরার কোনো সুযোগ দেখছেন না তিনি।
দুই বিপরীত বাস্তবতা
একদিকে একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটানো কর্মকর্তাদের বীরত্বগাথা ও তাঁদের ফিরিয়ে আনার দাবি, অন্যদিকে বিচারিক আদালতের দেয়া রায় ও আইনি বাধ্যবাধকতা, দুই বিপরীত বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এখন পুরো বিষয়টি। আইন ও ইতিহাসের এই জটিল অমীমাংসিত অধ্যায় শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন:








