ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন করে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। সফরের আগে দিল্লির কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং দুই দেশের মধ্যে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমে যা উঠে এসেছে
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের প্রতিবেদনে এটিকে ‘কঠিন শর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। আর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি বাংলাদেশের কাছে একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভারতীয় সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ব্রিকস সম্মেলন এবং দ্বিপক্ষীয় সফর, দুই ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে। তবে, সফরের সময় নির্ধারণ এখন ঢাকার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
সফরের সম্ভাব্য তারিখ
ভারত শুক্রবার (২১ আগস্ট)কে দ্বিপক্ষীয় সফরের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে প্রস্তাব করেছিল। পাশাপাশি আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ও রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ব্রিকস সম্মেলন। সেখানে অংশ নিতে তারেক রহমানকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই নয়াদিল্লির কাছে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করেছে ঢাকা। এর মধ্যে রয়েছে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামির প্রত্যর্পণের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা করা।
প্রতিবেদনটি অনুযায়ী, বাংলাদেশের সর্বশেষ অবস্থানের পর চলতি সপ্তাহে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের সম্ভাবনা কার্যত পিছিয়ে গেছে।
ঢাকার অবস্থান
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা করছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন। তবে, গত বুধবার (৫ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য সেই পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাসহ অন্যদের প্রত্যর্পণের অনুরোধকে বাংলাদেশের অনেকেই ‘রেড লাইন’ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, নয়াদিল্লির নীতিনির্ধারণী মহলে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে একটি স্পষ্ট ও যুক্তিসংগত জবাব দেয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রথম করা হয়েছিল ২০২৪ সালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়। পরবর্তীতে বর্তমান সরকারও সেই অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছে।
গত ১৭ বছরে শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে, নয়াদিল্লির সঙ্গে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তবে বর্তমান সরকারের সময়ে সেই ধারায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীনকে গুরুত্ব দেন। এসব সফরে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতার উদ্যোগও সামনে আসে।
এ অবস্থায় ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ অবস্থানে স্পষ্ট, সফরের আগে প্রয়োজন একটি অনুকূল পরিবেশ। আর সেই পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা।
আরও পড়ুন:








