মঙ্গলবার

১৮ আগস্ট, ২০২৬ ৩ ভাদ্র, ১৪৩৩

উপজেলায় মিলবে উন্নত চোখের চিকিৎসা, আসছে জাতীয় পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:১০

শেয়ার

উপজেলায় মিলবে উন্নত চোখের চিকিৎসা, আসছে জাতীয় পরিকল্পনা
ছবি সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি উপজেলায় নির্মাণাধীন ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে চোখের চিকিৎসার জন্য আলাদা বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ ও অপারেশন থিয়েটার সুবিধা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। একই সঙ্গে প্রায় ১০ লাখ ছানি অপারেশন, কয়েক কোটি চশমা বিতরণ এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির চিকিৎসার লক্ষ্য নিয়ে একটি সমন্বিত জাতীয় চক্ষু সেবা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার WHO SPECS 2030 Initiative-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই উদ্যোগের কার্যক্রম শুরু হলো।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আধুনিক চক্ষু সেবা পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তরের কাজ চলছে। প্রায় ৫০০টি উপজেলায় চোখের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে তৃণমূলের মানুষকে চিকিৎসার জন্য জেলা শহর বা রাজধানীতে যেতে না হয়।

প্রাথমিক চক্ষু সেবায় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ

সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় থাকা এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মীর প্রশিক্ষণে প্রাথমিক চক্ষু সেবা বাধ্যতামূলক অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানান ড. এম এ মুহিত। পাশাপাশি জেলা হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো সমন্বয় করে দ্রুত অন্তত অর্ধেক জেলায় নিয়মিত ছানি অপারেশন ও রিফ্রাকশন সেবা জোরদার করা হবে।

জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে একটি বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের এনজিওগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের চক্ষু সেবার সাফল্য তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, গত ছয় মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চক্ষু সেবার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করে যাচ্ছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তৎপরতায় বাংলাদেশ একটি গ্লোবাল সামিট আয়োজনের বড় প্রতিশ্রুতিও অর্জন করেছে। আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে দেশের চক্ষু চিকিৎসা খাতে একটি যুগান্তকারী ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা সরকারের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ.এস.এম.এম. কাদির, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক উপদেষ্টা ডা. তাশি তবগে এবং বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদসহ দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা।



banner close
banner close