সোমবার

১৭ আগস্ট, ২০২৬ ২ ভাদ্র, ১৪৩৩

"হত্যার মূল আসামি থেকে মাদক কারবারি—এপিবিএনের জালে জুলাই মাসে বহু অপরাধী"

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১১:১৪

শেয়ার

ছবি: সংগৃহীত

তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জুলাই ২০২৬ মাসে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে হত্যা মামলার মূল আসামিসহ একাধিক অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ৮৪৪টি মোবাইল ফোন, ১২ হাজার ৪২১ পিস ইয়াবা, ১ হাজার ৭৪৪ গ্রাম স্বর্ণ, আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিকাশ-নগদ প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা প্রায় ১০ লাখ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার করেছে বাহিনীটি।

এপিবিএনের ল’ অ্যান্ড মিডিয়া শাখা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জুলাই মাসের এসব সাফল্যের তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখার তথ্যপ্রযুক্তিগত সহায়তায় বিভিন্ন ইউনিট ৮৪৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে হারিয়ে যাওয়া মোবাইলের পাশাপাশি প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া অর্থ উদ্ধারে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়। বিকাশ-নগদ প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা ৯ লাখ ৫৮ হাজার ১৪৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতারণায় ব্যবহৃত ১৩টি সিম, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট, একটি ই-মেইল অ্যাকাউন্টসহ বিভিন্ন ডিজিটাল উপকরণও উদ্ধার করা হয়। প্রতারকের কাছ থেকে নগদ ২৫ হাজার ২৬০ টাকা এবং আত্মসাৎকৃত আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমেও জুলাই মাসে সারাদেশে ৫০৮ জনকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়েছে এপিবিএন।

মাদক উদ্ধারে বড় অভিযান

জুলাই মাসে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে ১২ হাজার ৪২১ পিস ইয়াবা, ১ দশমিক ১৮ কেজি গাঁজা, ৩২ লিটার মদ, ২৮৫ কার্টন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট, ৭২ পিস ভেপ সিগারেট ও ৭২টি বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।

মাদক বিক্রির ৬৭ হাজার ১৮০ টাকা উদ্ধারসহ মাদকসংক্রান্ত ১০টি মামলা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর মধ্যে ১৪ এপিবিএন ৫ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

হত্যা মামলার মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

এপিবিএনের অভিযানে একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল আসামিসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ৮ এপিবিএন। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত ১১ জন এবং এজাহারনামীয় ১৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হত্যা, অপহরণ ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন মামলায় আরও ১৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিভিন্ন অভিযানে ১৫ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।

অস্ত্র-গুলি ও স্বর্ণ উদ্ধার

জুলাইয়ে দুটি ওয়ানশুটার গান, ১৬ রাউন্ড গুলি, একটি হাসুয়া ও একটি দেশীয় লোহার দা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১৬ এপিবিএন একটি ওয়ানশুটার বন্দুক ও ১৬ রাউন্ড তাজা গুলিসহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

অন্যদিকে এপিবিএনের অভিযানে মোট ১ হাজার ৭৪৪ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১১টি মামলা দায়ের এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর মধ্যে ১৩ এপিবিএন ৩০০ দশমিক ৭ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের বাজারমূল্য ৪৭ লাখ ২০ হাজার ৯৯০ টাকা। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উদ্ধার বিপুল চোরাচালানি পণ্য

বিভিন্ন অভিযানে ৯১০ কেজি কসমেটিকস, ১৮৭ পিস শাড়ি ও থ্রি-পিস, দুটি মোবাইল/ল্যাপটপ, ৩২২ কেজি সামুদ্রিক কাঁকড়া, দুটি এফডিএমএন কার্ড, ২৩৬ কেজি খাদ্যদ্রব্যসহ আরও ৪১১ কেজি বিভিন্ন পণ্য উদ্ধার করেছে এপিবিএন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ২১টি যানবাহন আটক করা হয় এবং ৮৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

হারানো মোবাইল ও টাকা উদ্ধার

১২ এপিবিএন বিভিন্ন থানায় করা জিডির ভিত্তিতে ১৮৫টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে। পাশাপাশি ভুলক্রমে অন্য নম্বরে চলে যাওয়া বিকাশ ও নগদের ৭৩ হাজার ১৯৮ টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ট্রাফিক ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ৩৩১টি মামলায় ৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিএসটিআই ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অভিযানে আরও ৩১ লাখ ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩৬ জনকে দণ্ড দেয়া হয়েছে।

জুলাই মাসে ৮, ১৪ ও ১৬ এপিবিএনের মাধ্যমে মোট ৩১টি জিআর/সিআর মামলা রুজু হয়েছে। এসব মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে।

এপিবিএন জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিক সেবা আরও সম্প্রসারণে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



banner close
banner close